OrioleOriole
  • হোম
  • কোর্স
  • বিষয়সমূহ
  • প্রস্তুতি
  • মডেল টেস্ট
  • লাইভ ক্লাস
  • সিলেবাস
  • ব্লগ
  • সম্পর্কে
OrioleOriole
BCS প্রস্তুতিবাংলাদেশের পরিবেশ

বাংলাদেশের পরিবেশ

বাংলাদেশ এক বৈচিত্র্যময় ভৌত পরিবেশের দেশ, যা নদীমাতৃক সমভূমি, সবুজ পাহাড় এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন দ্বারা সমৃদ্ধ। এই অনন্য প্রকৃতি দেশটিকে দিয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা এর অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি। তবে, জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশ আজ মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিসিএস পরীক্ষায় ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অংশে বাংলাদেশের পরিবেশ, এর সম্পদ এবং সংকটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পৃষ্ঠায় আমরা এই বিষয়গুলো বিস্তারিত ও উদাহরণসহ আলোচনা করেছি, যা পরীক্ষার্থীদের একটি ধারণা পেতে সহায়তা করবে। প্লাবন সমভূমি (Floodplains): দেশের প্রায় ৮০% এলাকাই সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি, যা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদী ব্যবস্থার পলি দ্বারা গঠিত। এই উর্বর সমভূমিই বাংলাদেশের কৃষির মূল ভিত্তি। পাহাড়সমূহ (Hills): দেশের প্রায় ১২% এলাকা টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নিয়ে গঠিত। উদাহরণ: দক্ষিণ-পূর্বের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং উত্তর-পূর্বের সিলেট অঞ্চলের টিলাসমূহ। সোপান (Terraces): প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত এই অঞ্চল দেশের প্রায় ৮% এলাকা জুড়ে রয়েছে। উদাহরণ: বরেন্দ্রভূমি (রাজশাহী), মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় (টাঙ্গাইল, গাজীপুর)। প্রধান নদী ব্যবস্থা: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা (ব্রহ্মপুত্র) দেশের প্রধান নদী ব্যবস্থা, যা দেশের প্রায় সকল অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী (উদাহরণ): কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম বন্দরের ধারক), তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, হালদা (স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র)। গুরুত্ব: নদীগুলো পলি পরিবহনের মাধ্যমে সমভূমিকে উর্বর রাখে, কৃষি ও সেচের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশের বনভূমি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য অপরিহার্য। সুন্দরবন (The Sundarbans): পরিচয়: বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন। এটি একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (১৯৯৭) এবং রামসার সাইট। প্রধান উদ্ভিদ (উদাহরণ): সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা। প্রধান প্রাণী (উদাহরণ): রয়েল বেঙ্গল টাইগার (জাতীয় পশু), চিত্রা হরিণ, কুমির, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপ। গুরুত্ব: ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে, মধু ও মোমের প্রধান উৎস। পরিচয়: বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন। এটি একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (১৯৯৭) এবং রামসার সাইট। প্রধান প্রাণী (উদাহরণ): রয়েল বেঙ্গল টাইগার (জাতীয় পশু), চিত্রা হরিণ, কুমির, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপ। গুরুত্ব: ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে, মধু ও মোমের প্রধান উৎস। পাহাড়ি বন (Hill Forests): অবস্থান: পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল। বৈশিষ্ট্য: চিরহরিৎ ও পত্রপতনশীল বৃক্ষের মিশ্র বন। প্রধান উদ্ভিদ (উদাহরণ): গর্জন, সেগুন, জারুল, গামার, চাপালিশ, বাঁশ, বেত। প্রধান প্রাণী (উদাহরণ): হাতি, বানর, বন্য শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। সমতলভূমির বন (Plain Land Forests): অবস্থান: মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়। প্রধান উদ্ভিদ: শাল বা গজারি। জীববৈচিত্র্য হটস্পট: সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ (দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ), টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর (পরিযায়ী পাখির জন্য বিখ্যাত)। কৃষি সম্পদ: প্রধান ফসল: ধান, পাট ('সোনালী আঁশ'), গম, ভুট্টা, আলু, চা, আখ। ফল: আম (জাতীয় বৃক্ষ), কাঁঠাল (জাতীয় ফল), লিচু, কলা, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা। অন্যান্য: ডাল, তৈলবীজ, শাকসবজি, মসলা। গুরুত্ব: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এবং রপ্তানি আয়ের উৎস। মৎস্য সম্পদ: মিঠা পানির মাছ: বাংলাদেশ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়। উদাহরণ: রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, কৈ, শিং, মাগুর। জাতীয় মাছ: ইলিশ। বাংলাদেশ বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে প্রথম (প্রায় ৮৬%)। এটি একটি জিআই পণ্য। সামুদ্রিক সম্পদ: বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। উদাহরণ: রূপচাঁদা, লইট্টা, টুনা। চিংড়ি: 'সাদা সোনা' নামে পরিচিত, একটি প্রধান রপ্তানি পণ্য। উদাহরণ: গলদা ও বাগদা। মিঠা পানির মাছ: বাংলাদেশ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়। উদাহরণ: রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, কৈ, শিং, মাগুর। জাতীয় মাছ: ইলিশ। বাংলাদেশ বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে প্রথম (প্রায় ৮৬%)। এটি একটি জিআই পণ্য। সামুদ্রিক সম্পদ: বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। উদাহরণ: রূপচাঁদা, লইট্টা, টুনা। বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে খুব সমৃদ্ধ না হলেও, প্রাকৃতিক গ্যাসসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস: দেশের প্রধান জ্বালানি সম্পদ। প্রধান গ্যাসক্ষেত্র: তিতাস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ (কুমিল্লা), বিবিয়ানা (হবিগঞ্জ, দেশের বৃহত্তম)। অন্যান্য: চুনাপাথর (সুনামগঞ্জ), সাদামাটি (নেত্রকোনা), কাচবালি (সিলেট), পিট কয়লা (ফরিদপুর)। সমুদ্র সম্পদ (Blue Economy): বঙ্গোপসাগরের তলদেশে গ্যাস হাইড্রেট এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: এর ফলে দেশের উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো স্থায়ীভাবে প্লাবিত হওয়ার এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (যেমন: সিডর, আইলা, আম্পান) এবং তৎসংলগ্ন জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করে। বন্যা: মৌসুমি বন্যা, আকস্মিক বন্যা (হাওর অঞ্চলে) এবং নদী ভাঙন প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যান্য দুর্যোগ: কালবৈশাখী, টর্নেডো, বজ্রপাত এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকিও রয়েছে (বাংলাদেশ তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত)। দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বায়ু দূষণ: উৎস: ইটভাটা, শিল্প-কারখানার ধোঁয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন, নির্মাণ কাজের ধুলাবালি। প্রভাব: ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকে। এর ফলে শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। উৎস: ইটভাটা, শিল্প-কারখানার ধোঁয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন, নির্মাণ কাজের ধুলাবালি। প্রভাব: ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকে। এর ফলে শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। পানি দূষণ: উৎস: শিল্পবর্জ্য (বিশেষ করে ট্যানারি ও টেক্সটাইল), কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক, এবং অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য। প্রভাব: ঢাকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যাসহ দেশের প্রধান প্রধান নদীগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে জলজ প্রাণের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে। উৎস: শিল্পবর্জ্য (বিশেষ করে ট্যানারি ও টেক্সটাইল), কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক, এবং অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য। প্রভাব: ঢাকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যাসহ দেশের প্রধান প্রধান নদীগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে জলজ প্রাণের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে। মাটি দূষণ: কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার এবং শিল্পবর্জ্য ফেলার কারণে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ: অপচনশীল প্লাস্টিক ও পলিথিন নদী-নালা ও শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে এবং সামুদ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। আর্সেনিক দূষণ: দেশের ৬১টি জেলার ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। এখানে বাংলাদেশের পরিবেশ, ভৌত প্রকৃতি, নদ-নদী, বনজ, কৃষি, মৎস্য ও খনিজ সম্পদ এবং প্রধান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জসমূহের উপর ভিত্তি করে বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সংকলিত হলো। নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার জন্য প্রশ্নগুলো অনুশীলন করুন।

এই পাতার জন্য MCQ বা পাঠ-সামগ্রী এখনও যোগ করা হয়নি। শীঘ্রই উপলব্ধ হবে।

পূর্ববর্তী
ভৌত পরিবেশ ও সম্পদ
পরবর্তী
পরিবেশ পরিবর্তন ও প্রভাব
নিউজলেটার

পরীক্ষার আপডেট সরাসরি আপনার ইনবক্সে

নতুন সার্কুলার, ফ্রি মডেল টেস্ট ও প্রস্তুতি টিপস — সপ্তাহে একবার।

OrioleOriole

অরিয়ল (Oriole) — প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ও NTRCA শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতির এক প্ল্যাটফর্ম। সিলেবাসভিত্তিক পাঠ, প্রশ্ন ব্যাঙ্ক, মডেল টেস্ট এবং বিশেষজ্ঞ ইনস্ট্রাক্টরদের লাইভ ক্লাস — সবকিছু এক জায়গায়।

  • আকুয়া, ময়মনসিংহ ২২০০, বাংলাদেশ
  • +880 171648362490
  • hello@oriole.com.bd

প্রস্তুতি

  • সব কোর্স
  • বিষয়সমূহ
  • মডেল টেস্ট
  • লাইভ ক্লাস
  • সিলেবাস
  • ব্লগ

পরীক্ষা ও বিষয়

  • বাংলা
  • ইংরেজি
  • গণিত
  • সাধারণ জ্ঞান
  • প্রাথমিক ফুল কোর্স
  • NTRCA প্রিলি ব্যাচ

প্ল্যাটফর্ম

  • সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • সচরাচর জিজ্ঞাসা
  • গোপনীয়তা নীতি
  • শর্তাবলী
  • রিফান্ড নীতি

অ্যাপ ডাউনলোড

শীঘ্রই আসছেGoogle Play
শীঘ্রই আসছেApp Store

নিরাপদ পেমেন্ট পার্টনার

bKash
Nagad
Rocket

© 2026 অরিয়ল (Oriole)। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

গোপনীয়তা·শর্তাবলী·কুকিজ·সাইটম্যাপ