উত্তর
বর্ণ।
লোড হচ্ছে…
ভাষার উচ্চারিত ক্ষুদ্রতম একক বা ধ্বনির লিখিত বা সাংকেতিক চিহ্নকে বর্ণ বলে। বাংলা বর্ণমালা বাংলা ভাষার লিখন পদ্ধতি, যা বাংলা লিপির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এই বর্ণমালাতে মোট ৫০টি বর্ণ রয়েছে, যা বাংলা ভাষার ধ্বনিগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে। বিসিএস পরীক্ষায় বর্ণ, এর প্রকারভেদ, উচ্চারণস্থান এবং যুক্তবর্ণ থেকে প্রশ্ন এসে থাকে। এই পৃষ্ঠায় আমরা এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। যেসব ধ্বনি বা বর্ণ উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে কোথাও বাধা পায় না, তাদের স্বরধ্বনি বা স্বরবর্ণ বলে। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ মোট ১১টি।
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে।
(৪টি) - অ, ই, উ, ঋ ।
যেমন: অনেক, এখন, ইতি, উনি, ঋণ, জল, বই, রবি, ছবি, মধু, খুকু, ঋষি, ঋতু।
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে বেশি সময় লাগে।
(৭টি) - আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ ।
যেমন: আকাশ, ঈগল, ঊষা, এক, ঐক্য, ওল, ঔষধ, আশা, ঈমান, ঊন, বেলা, কৈ, ভোর, মৌ।
যে স্বরধ্বনিগুলোকে আর ভাঙা যায় না।
- অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও । (উল্লেখ্য, 'অ্যা' এর কোনো বর্ণরূপ নেই, যেমন: ব্যাংক, ব্যাঙ, জ্যাঠা, অ্যাকাডেমী)।
দুটি স্বরধ্বনি মিলে গঠিত ধ্বনি।
বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ ২টি। - ঐ (অ+ই) এবং ঔ (অ+উ) ।
যেমন: বৈশাখ, কৈলাস, সৈনিক, দৈনিক, বৈধ, নৈশ, নৌকা, মৌমাছি, কৌতুক, গৌরব, ঔষধ, লৌকিক।
ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণ যুক্ত হওয়ার জন্য স্বরবর্ণের যে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়, তাকে 'কার' বলে। বাংলা বর্ণমালায় কার-এর সংখ্যা ১০টি ('অ'-এর কোনো কার নেই)। যেসব ধ্বনি বা বর্ণ উচ্চারণের সময় বাতাস মুখের কোনো না কোনো স্থানে (যেমন: কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দন্ত, ওষ্ঠ) বাধা পেয়ে উচ্চারিত হয়, তাদের ব্যঞ্জনধ্বনি বা ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণ মোট ৩৯টি।
ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ।
উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হলে ঘোষ বর্ণ এবং অনুরণিত না হলে অঘোষ বর্ণ হয়।
বর্গের ১ম ও ২য় বর্ণ (ক, খ; চ, ছ; ট, ঠ; ত, থ; প, ফ) এবং শ, ষ, স।
যেমন: কথা, ख़बर, চাচা, ছাতা, টমেটো, ঠক, তথা, পথ, ফল, শাপলা, ষাঁড়, সিংহ, আকাশ, কাঠ, শপথ।
বর্গের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বর্ণ (গ, ঘ, ঙ; জ, ঝ, ঞ; ড, ঢ, ণ; দ, ধ, ন; ব, ভ, ম) এবং হ, য়, র, ল।
যেমন: গগন, ঘর, রঙ, জবা, ঝড়, মিঞা, ডাব, ঢাকনা, হরিণ, দান, ধন, নয়ন, বাবা, ভাই, মন, হয়, যায়, রাত, লাউ, বাগান, ভালো।
উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হলে মহাপ্রাণ এবং কম জোরে বের হলে অল্পপ্রাণ বর্ণ হয়।
বর্গের ১ম ও ৩য় বর্ণ (ক, গ; চ, জ; ট, ড; ত, দ; প, ব)।
যেমন: কলম, গগন, চাকা, জল, টিন, ডাল, তবলা, দই, পাতা, বন, অচল, জগৎ, পড়া।
বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণ (খ, ঘ; ছ, ঝ; ঠ, ঢ; থ, ধ; ফ, ভ)।
যেমন: খাতা, ঘর, ছাতা, ঝড়, ঠেলা, ঢাক, থালা, ধন, ফল, ভালুক, পাঠ, মেঘ, ঔষধ।
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং, ঁ।
যেমন: ব্যাঙ, মিঞা, কারণ, বন, আম, রং, চাঁদ, বংশ, গঞ্জ, কাণ্ড, শান্ত, সম্মান।
শ, ষ, স, হ।
যেমন: শশা, আষাঢ়, সকাল, হঠাৎ, আশা, ভাষা, কষ্ট, সহজ, সিংহ।
(উচ্চারণের সময় বাতাস যতক্ষণ খুশি রাখা যায়)।
য, র, ল, ব।
(স্বর ও ব্যঞ্জনের মাঝে এদের অবস্থান)।
যেমন: যায়, রাত, লাল, বাবা, ভয়, নয়ন, মলয়।
ড়, ঢ়।
(জিহ্বার অগ্রভাগ দ্বারা তাড়িত হয়ে উচ্চারিত হয়)।
যেমন: গাড়ি, আষাঢ়, বড়, দৃঢ়, পড়া, மூढ़ा।
ল।
(উচ্চারণের সময় বাতাস জিহ্বার দুই পাশ দিয়ে বের হয়)।
যেমন: লেবু, লাল, জল, ফল, চাল, ডাল, লবণ।
র।
(উচ্চারণের সময় জিহ্বা কম্পিত হয়)।
যেমন: রাত, গরম, শরৎ, রাজা, মরণ, বিরাট, প্রহর।
ং, ঃ, ঁ।
(এরা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না, অন্য বর্ণের আশ্রয়ে ব্যবহৃত হয়)।
যেমন: রং, দুঃখ, চাঁদ, বাংলা, অতঃপর, দাঁত, হ্যাঁ।
ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ যখন অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হয়, তখন তাকে 'ফলা' বলে। এখানে বাংলা বর্ণ, এর প্রকারভেদ, মাত্রা, উচ্চারণস্থান, উচ্চারণরীতি এবং যুক্তবর্ণের উপর ভিত্তি করে বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সংকলিত হলো। নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার জন্য প্রশ্নগুলো অনুশীলন করুন।
উত্তর
বর্ণ।
উত্তর
৫০টি।
উত্তর
১১টি।
উত্তর
৩৯টি।
উত্তর
৩২টি।
উত্তর
৮টি।
উত্তর
১০টি।
উত্তর
'অ' স্বরবর্ণের।
উত্তর
কার।
উত্তর
ফলা।
উত্তর
৭টি (অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা)।
উত্তর
২টি—ঐ এবং ঔ।
উত্তর
অ + ই।
উত্তর
অ + উ।
উত্তর
অ, ই, উ, ঋ। (মোট ৪টি)
উত্তর
আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ। (মোট ৭টি)
উত্তর
কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ।
উত্তর
তালু (এগুলো তালব্য বর্ণ)।
উত্তর
মূর্ধন্য বর্ণ।
উত্তর
দন্ত বা দাঁত (এগুলো দন্ত্য বর্ণ)।
উত্তর
ওষ্ঠ্য বর্ণ।
উত্তর
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।
উত্তর
বর্গীয় বর্ণ বা স্পর্শ বর্ণ।
উত্তর
বর্গের ১ম ও ২য় বর্ণ।
উত্তর
বর্গের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বর্ণ।
উত্তর
বর্গের ১ম ও ৩য় বর্ণ।
উত্তর
বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণ।
উত্তর
অঘোষ, অল্পপ্রাণ, তালব্য বর্ণ।
উত্তর
ঘোষ, মহাপ্রাণ, ওষ্ঠ্য বর্ণ।
উত্তর
শ, ষ, স, হ।
উত্তর
য, র, ল, ব।
উত্তর
ড়, ঢ়।
উত্তর
ল।
উত্তর
র।
উত্তর
৩টি—ং (অনুস্বার), ঃ (বিসর্গ), ঁ (চন্দ্রবিন্দু)।
উত্তর
ক্ + ষ।
উত্তর
ক্ষ (ক্ + ষ)।
উত্তর
জ্ + ঞ।
উত্তর
জ্ঞ (জ্ + ঞ)।
উত্তর
হ্ + ম।
উত্তর
হ্ম (হ্ + ম)।
উত্তর
ষ্ + ণ।
উত্তর
ষ্ণ (ষ্ + ণ)।
উত্তর
ঞ্ + চ।
উত্তর
ঞ্চ (ঞ্ + চ)।
উত্তর
ঞ্ + জ।
উত্তর
ঞ্জ (ঞ্ + জ)।
উত্তর
ত্ + র।
উত্তর
হ্ + ন।
উত্তর
হ্ + ণ।
উত্তর
ত্ + থ।
উত্তর
দ্ + ধ।
উত্তর
৩টি (ষ্ + ট্ + র)।
উত্তর
ন্ + ধ্ + য (য-ফলা)।
উত্তর
ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর। (যদিও এটি সরাসরি কার নয়, কিন্তু এটি বর্ণের প্রয়োগ)।
উত্তর
ত্ + ম।
উত্তর
দ্ম (দ্ + ম)।
উত্তর
ম্ + ফ।
উত্তর
ঙ।
উত্তর
অতি (উচ্চারণ: ওতি)।
উত্তর
অনেক।
উত্তর
'ত' বর্ণের।
উত্তর
স্ + ক।
উত্তর
ম-ফলার উচ্চারণ হয় না, তবে বর্ণটি সানুনাসিক হয় (যেমন: শ্মশান)।
উত্তর
সাধারণত ব-ফলার উচ্চারণ হয় না এবং যুক্ত বর্ণটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় (যেমন: বিশ্বাস)।
উত্তর
ত্ + শ।
উত্তর
ব্রাহ্মী লিপি।
উত্তর
অনুনাসিক বা নাসিক্য উচ্চারণ।
উত্তর
ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স।
উত্তর
ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব।
উত্তর
কণ্ঠ ও নাসিকা।
উত্তর
তালু ও নাসিকা।
উত্তর
উচ্চারণ স্থান (যথাক্রমে তালু, মূর্ধা, দন্ত)।
উত্তর
না, নেই।
উত্তর
ব-ফলার উচ্চারণ হয় না, তবে 'শ'-এর দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়।
উত্তর
স্বরবর্ণ (হ্রস্ব স্বর)।
উত্তর
'হ'-এর অঘোষ রূপ।
উত্তর
হ-এর মতো।
উত্তর
ও-কারের মতো।
উত্তর
ণ (মূর্ধন্য-ণ)।
উত্তর
এটি স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ।
উত্তর
স (দন্ত্য-স)।
উত্তর
শ (তালব্য-শ)।
উত্তর
ষ (মূর্ধন্য-ষ)।
উত্তর
ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ।
উত্তর
ঋ।
উত্তর
র-জাত ও স-জাত।
উত্তর
এক (উচ্চারণ: অ্যাকে)।
উত্তর
ঙ্ + গ।
উত্তর
ষ্ + ক।
উত্তর
স্ + ন।
উত্তর
আওভান (হ এর উচ্চারণ হয় না)।
উত্তর
এটি বর্গীয় বর্ণ নয়, এটি অন্তঃস্থ বর্ণ।
উত্তর
উষ্ম ও ঘোষ বর্ণ।
উত্তর
শব্দের শেষে।
উত্তর
ল-ফলা।
উত্তর
র-ফলা ও ন-ফলা।
উত্তর
কণ্ঠ্য, ঘোষ ও মহাপ্রাণ বর্ণ।
উত্তর
ং (অনুস্বার)।
উত্তর
ল-এর দ্বিত্ব হয় এবং হ লুপ্ত হয় (আল্লাদ)।
উত্তর
ণ্ + ড।