এই অধ্যায় পড়ে তুমি পারবে —
- সঠিক পরিভাষা ব্যবহার করে ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহারের কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারবে
- বাংলা কী-বোর্ড ব্যবহারের কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারবে
- ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা ব্যাখ্যা করতে পারবে
- ওয়ার্ডে বাংলা ডকুমেন্ট তৈরি করতে পারবে
- সুষ্ঠুভাবে ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা করতে পারবে
৪.১বাংলা কী-বোর্ড

তোমরা ইতোমধ্যে দিয়ে ইংরেজিতে ডকুমেন্ট টাইপ করতে শিখেছ। এ শ্রেণিতে শিখব বাংলা ডকুমেন্ট তৈরির কলাকৌশল। এর জন্য প্রথমেই দরকার বাংলা কী-বোর্ড সম্পর্কে ধারণা।
বাংলা লেখার প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়েছে
১৯৬৫
মুনীর কী-বোর্ড
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শহিদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী বাংলা টাইপরাইটারের জন্য প্রথম বিজ্ঞানসম্মত কী-বোর্ড লেআউট তৈরি করেন; পরে এটিই কম্পিউটারের জন্য করা হয়।
১৯৮৫
শহীদ লিপি
কিছু বাংলা ফন্টসহ প্রথম বাংলা লেখার সফটওয়্যার — তবে তেমন জনপ্রিয় হয়নি।
আশি-নব্বইয়ের দশক
বিজয় ও অন্যান্য
বিজয়, প্রশিকা শব্দ, প্রবর্তনা, লেখনী ইত্যাদি সফটওয়্যার বাজারে আসে; উন্নয়ন ও সামঞ্জস্যের কারণে বিজয় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।
২০০৭
অভ্র
মেহেদী হাসান খান বিনামূল্যের ইউনিকোড সফটওয়্যার অভ্র প্রবর্তন করেন — উচ্চারণভিত্তিক (ফোনেটিক) টাইপিং, তরুণদের কাছে খুব জনপ্রিয়। এ আবিষ্কারের জন্য তিনি ২০২৫ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একুশে পদক পান।
এখন
মুখের কথাই লেখা
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও মাইক্রোফোনযুক্ত কম্পিউটারে মুখে বলা কথা লেখায় রূপান্তর করা যায়।


বিজয় কী-বোর্ডের দুটি নিয়ম
- ওয়ার্ড প্রসেসরে বিজয় সচল করতে Ctrl+Alt+B একসঙ্গে চাপতে হয়।
- দুটি অক্ষর যুক্ত করতে প্রথম অক্ষর চেপে ইংরেজি g চাপো, তারপর দ্বিতীয় অক্ষর।
| বর্ণ | কী | বর্ণ | কী |
|---|---|---|---|
| ক্ষ | jgN | ষ্ণ | NgB |
| ঞ্চ | Igy | জ্ঞ | ugI |
| ঞ্জ | Igu | ঞ্ছ | IgY |
| হ্ম | qgo |
বিজয় বনাম অভ্র
বিজয়
- নির্দিষ্ট লেআউট — কোন বোতামে কোন অক্ষর মুখস্থ করতে হয়
- চালু করতে Ctrl+Alt+B
- ফন্ট: SutonnyMJ
অভ্র
- উচ্চারণভিত্তিক (ফোনেটিক) — "ami" লিখলে "আমি"
- চালু করতে F12
- ফন্ট: NikoshBAN বা যেকোনো ইউনিকোড ফন্ট
- বিনামূল্যের
অভ্রের উচ্চারণভিত্তিক টাইপিংয়ে যদি "ami banglay gan gai" টাইপ করো, লেখা হবে "আমি বাংলায় গান গাই"। ফলে যাদের বাংলায় লেখালেখিতে ভয় ছিল, তারাও সহজে লিখতে পারে।

| টাইপ করো | লেখা হবে |
|---|---|
| k | ক |
| kh | খ |
| g | গ |
| gh | ঘ |
| ami | আমি |
| bangla | বাংলা |

দলগত কাজ
- ওয়ার্ড প্রসেসর চালু করো; বিজয়ে Ctrl+Alt+B অথবা অভ্রে F12 চাপো।
- ফন্ট নির্বাচন করো — বিজয়ে SutonnyMJ, অভ্রে NikoshBAN বা যেকোনো ইউনিকোড ফন্ট।
- জাতীয় সংগীতের প্রথম লাইনটি টাইপ করো: "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি"।
- ডকুমেন্টটি একটি নাম দিয়ে সংরক্ষণ (সেইভ) করো।
৪.২ডকুমেন্ট সম্পাদনা
লেখায় ভুল থাকতেই পারে। যে প্রক্রিয়ায় ডকুমেন্টের ভুল-ভ্রান্তি ঠিক করা হয়, তাকে বলে সম্পাদনা (Editing)। সম্পাদনার প্রায় সব কাজের শুরুতে লেখার অংশটি করতে হয়।
লেখা সরানোর বা কপি করার ধাপ
নির্বাচন (Select): কার্সর জায়গামতো রেখে Shift + → চেপে অক্ষর, শব্দ বা বাক্য নির্বাচন করো।
| কাজ | অর্থ | কী |
|---|---|---|
| কাট (Cut) | অংশটি এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নেওয়া | Ctrl + X |
| কপি (Copy) | অংশটির অনুলিপি নেওয়া, মূলটি যেখানে ছিল সেখানেই থাকে | Ctrl + C |
| পেস্ট (Paste) | কাট বা কপি করা অংশ নির্ধারিত জায়গায় বসানো | Ctrl + V |
| ডিলিট (Delete) | নির্বাচিত অংশ মুছে ফেলা | Delete / Del / Backspace |
| যা করতে চাই | যে কী চাপতে হবে |
|---|---|
| লাইনের শুরুতে কার্সর নিতে | Home |
| লাইনের শেষে কার্সর নিতে | End |
| ডকুমেন্টের শুরুতে কার্সর নিতে | Ctrl + Home |
| ডকুমেন্টের শেষে কার্সর নিতে | Ctrl + End |
নিজেকে যাচাই করো
১. একটি বাক্য এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নিতে চাও, মূল জায়গায় থাকবে না। প্রথমে নির্বাচন করে কোনটি চাপবে?
২. ডকুমেন্টের একেবারে শেষে কার্সর নিতে কোনটি চাপবে?
৪.৩ডকুমেন্ট ফরম্যাট করা
ডকুমেন্ট তৈরি ও সম্পাদনার পর একে সুন্দর করে সাজানোর কাজকে বলে ডকুমেন্ট ফরম্যাটিং। সব ক্ষেত্রেই আগে অংশটি নির্বাচন করতে হয়, তারপর টুলবার বা -এ ক্লিক অথবা কী-বোর্ড শর্টকাট।
| যা করতে চাই | কী-বোর্ড শর্টকাট | টুলবারে |
|---|---|---|
| লেখার আকার ১ পয়েন্ট বড় | Ctrl + ] | ফন্টের নামের পাশের সংখ্যা বাড়াও |
| লেখার আকার ১ পয়েন্ট ছোট | Ctrl + [ | ফন্টের নামের পাশের সংখ্যা কমাও |
| লেখা বোল্ড (গাঢ়) | Ctrl + B | B |
| লেখা ইটালিক (বাঁকা) | Ctrl + I | I |
| লেখা আন্ডারলাইন (নিচে দাগ) | Ctrl + U | U |
কোনো অনুচ্ছেদ মার্জিনের কোন দিকে মিশে থাকবে, তা ঠিক করে । সাধারণত অনুচ্ছেদ বাম দিকে থাকে।
চার ধরনের এলাইনমেন্ট — শর্টকাটসহ
বাম (Ctrl + L)
- লাইনগুলো বাম দিকে সমান
- সাধারণ লেখার জন্য
মাঝ বরাবর (Ctrl + E)
- লাইনগুলো মাঝখানে
- শিরোনামের জন্য উপযোগী
ডান (Ctrl + R)
- লাইনগুলো ডান দিকে সমান
- তারিখ বা স্বাক্ষরের জন্য
জাস্টিফাইড (Ctrl + J)
- দুই দিকেই সমান
- বইয়ের পাতার মতো পরিপাটি
শর্টকাট মুখস্থ করার কার্ড
কার্ডে চাপ দিলে উল্টে যাবে।
৪.৪মুদ্রণ ও ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা
মুদ্রণের জন্য যা লাগে
- কম্পিউটারের সঙ্গে যথাযথভাবে যুক্ত একটি প্রিন্টার
- প্রিন্টারের জন্য দরকারি সফটওয়্যার
- উপযুক্ত সাইজের কাগজ
ডকুমেন্ট ছাপার ধাপ
প্রস্তুতি: প্রিন্টার, সফটওয়্যার ও কাগজ ঠিক আছে কি না দেখো; শিক্ষকের অনুমতি নাও।
ডকুমেন্ট এমনভাবে সংরক্ষণ করা যাতে হারিয়ে না যায় এবং দরকারের সময় সহজে খুঁজে পাওয়া যায় — এই কাজকে বলে ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা। সাধারণভাবে যেকোনো ডকুমেন্ট ফোল্ডারে সেইভ হয়, কিন্তু অনেক ফাইলের ভিড়ে তোমারটি মিশে গেলে পরে খুঁজে পাওয়া কঠিন।
ডকুমেন্ট গুছিয়ে রাখার চারটি ধাপ
নতুন ফোল্ডার: মাই ডকুমেন্ট ফোল্ডার খুলে তার মধ্যে একটি নতুন ফোল্ডার খোলো।
দলগত কাজ
- ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে শ্রেণিতে উপস্থাপন করো।
৪.৫অনুশীলন
নমুনা প্রশ্ন (বহুনির্বাচনি)
১. কম্পিউটারে লেখালেখির কাজ করার সফটওয়্যার কোনটি?
২. উচ্চারণভিত্তিক বাংলা সফটওয়্যার কোনটি?
৩. ‘এন্টার’ (Enter) কোন কাজে ব্যবহার করা হয়?
৪. কোনো কিছু কপি করতে কোন আইকনে ক্লিক করতে হবে?
৫. রানুর জন্ম আমেরিকায়। বাংলায় কথা বলতে পারলেও লিখতে পারে না। ঈদে দাদুকে বাংলায় কার্ড পাঠাতে সে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করবে?
৬. রানু কার্ডটি সুন্দর ও সহজে তৈরি করতে — (i) কিছু শব্দ কপি করতে পারে (ii) ছবি সংযুক্ত করতে পারে (iii) এডিটিং করে বানান শুদ্ধ করতে পারে। কোনটি সঠিক?
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ১: কী-বোর্ডকে ওয়ার্ড প্রসেসরের প্রধান ইনপুট ডিভাইস বলা হয় কেন?
ওয়ার্ড প্রসেসরের মূল কাজ লেখা — আর অক্ষর, সংখ্যা, চিহ্ন ও সম্পাদনার নির্দেশ (কাট, কপি, পেস্ট, ফরম্যাটিং) সবই কী-বোর্ড দিয়ে দেওয়া হয়। তাই কী-বোর্ডই এর প্রধান ইনপুট ডিভাইস।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ২: অভ্র কী? তরুণ সমাজের কাছে অভ্রর জনপ্রিয়তার কারণ কী?
অভ্র হলো ২০০৭ সালে মেহেদী হাসান খানের প্রবর্তিত বিনামূল্যের ইউনিকোড বাংলা লেখার সফটওয়্যার। জনপ্রিয়তার কারণ: এটি উচ্চারণভিত্তিক — বাংলা কী-বোর্ড মুখস্থ না করেই ইংরেজি অক্ষরে উচ্চারণ লিখলে বাংলা হয় ("ami" → "আমি"); আর এটি বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৩: ওয়ার্ড প্রসেসরে কখন কপি করার প্রয়োজন হয়? কপি করার প্রক্রিয়া লেখো।
কোনো অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা অংশ মূল জায়গায় রেখে তার অনুলিপি অন্য জায়গায় নিতে হলে কপি করতে হয়। প্রক্রিয়া: অংশটি নির্বাচন করে Ctrl + C চাপো, তারপর কার্সর নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে Ctrl + V চাপো।