এই অধ্যায় পড়ে তুমি পারবে —
- মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো ব্যাখ্যা করতে পারবে
- সামাজিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব বর্ণনা করতে পারবে
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কিত আইন ব্যাখ্যা করতে পারবে
- নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারবে
- মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিণতি সম্পর্কে কার্টুন আঁকতে পারবে
৩.১সচেতন ব্যবহার

ছোট ছুরি বনাম ধারালো দা
ছোট ছুরি
- সারা দিনে গাছের বাকল একটুখানি তোলা যায়
- অসতর্ক হলে হাতে একটু খোঁচা লাগে
ধারালো দা
- কয়েক কোপেই ডাল কাটা যায়
- অসতর্ক হলে ভয়াবহ রক্তারক্তি হতে পারে
ইন্টারনেটে পৃথিবীর সব কম্পিউটার যুক্ত — ঘরে বসে ব্যবহার করলে যেন পুরো পৃথিবী তোমার ছোট ঘরে হাজির হয়। পৃথিবীতে যেমন সুন্দর জায়গা আছে, তেমনি আছে বিপজ্জনক জায়গা। ইন্টারনেটেও চমৎকার ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আছে , যা কোনোভাবেই দেখা উচিত নয়।
অপরিচিত মানুষের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়ে যেতে পারে। সরল বিশ্বাসে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ছবি দিয়ে বসলে আর সে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে কী করবে? আবার কেউ দেখছে না বলে -এ অনেকের কথাবার্তা অসংযত, অশালীন হয়ে যায়। সত্যিকার জীবনে যা দেখি না, সাইবার জগতে তা দেখব কেন?
ইন্টারনেট ব্যবহারের তিনটি নিয়ম
সবার চোখের সামনে: ইন্টারনেট কখনো একা অন্যদের চোখের আড়ালে ব্যবহার করবে না; এমন জায়গায় বসবে যেখানে সবাই তোমার স্ক্রিন দেখতে পায়।



দলগত কাজ
- কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ছাড়াও তোমার জীবনে আর কী কী প্রযুক্তি সচেতনভাবে ব্যবহার করা উচিত, তার একটা তালিকা করো।
- ইন্টারনেট ব্যবহারের তিনটি নিয়ম লিখে একটি সুন্দর পোস্টার তৈরি করো।
৩.২আসক্তি
২০০৯ সালে চীনে এক দম্পতি গ্রেপ্তার হন — বিভিন্ন সময়ে তাঁরা তাঁদের তিন সন্তানকে প্রায় ৯০০০ ডলারে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। কারণ অভাব নয়: নামের কম্পিউটার গেম খেলায় তাঁদের এমন তীব্র আসক্তি জন্মেছিল যে খেলার খরচ জোগাড় করতেই এই কাজ। খবরটি জানাজানি হলে পৃথিবীর মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আবিষ্কার করে — কম্পিউটার গেমেও এমন আসক্তি হতে পারে যে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান পর্যন্ত উধাও হয়ে যায়।

ভালো লাগা বনাম আসক্তি
ভালো লাগা
- খুবই স্বাভাবিক — জীবনকে সুন্দর করে
- যুক্তি দিয়ে বুঝে পরিমিতভাবে করা হয়
- অন্য কাজ ও মানুষের জন্যও সময় থাকে
আসক্তি
- এর মাঝে ভালো কিছু নেই
- যুক্তি কাজ করে না, অযৌক্তিকভাবে করে যায়
- নিজের ও আশপাশের সবার জীবন ধ্বংস করে — মাদক এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ

কেউ আসক্ত কি না বোঝা কঠিন নয় — যখনই দেখবে কেউ কোনো কাজে মাত্রা ছাড়িয়ে ফেলছে। কার্টুন দেখে উঠে এসে অন্য কাজে মন দেওয়া স্বাভাবিক; কিন্তু টেলিভিশন ছেড়ে উঠতেই না পারলে, বা অন্যরা অন্য কিছু দেখতে না পারলে বুঝবে আসক্তি জন্মাতে শুরু করেছে। অনেক বাবা-মা বাচ্চাকে শান্ত রাখতে কার্টুন চালিয়ে বসিয়ে রাখেন — ধীরে ধীরে শিশুটি কার্টুন ছাড়া কিছু বোঝে না, যা মানসিক বিকাশে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমনকি খাবারেও আসক্তি হতে পারে — ব্রিটেনের এক মেয়ে একত্রিশ বছর ধরে পিৎজা ছাড়া কিছুই খেতে পারে না।
একসময় আসক্তি বলতে বোঝাত জুয়া বা মাদক। এখন অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারও আসক্তি হিসেবে ধরা হয়; খুব বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য নাম দেওয়া হয়েছে ।
কম্পিউটার আসক্তি যেভাবে বাড়ে — লক্ষণগুলো চেনো
পরিবারকে সময় না দেওয়া: মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধুদের সময় না দিয়ে সেই সময়টা কম্পিউটারের পেছনে দেওয়া।

আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার উপায়
- কম্পিউটারের বাইরের জগৎ থেকেও আনন্দ পাওয়া শেখাতে হবে — সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে খেলাধুলা।
- সময় ঠিক করে দিতে হবে — দিনে কতক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করবে, যেমন এক ঘণ্টার বেশি নয়।
- অন্য কোনো কাজ করে কম্পিউটার ব্যবহারের সেই সময়টুকু অর্জন করতে হবে।
- আসক্ত মানুষকে বের করে আনার দায়িত্ব সবার।
দলগত কাজ
- কম্পিউটার গেমের আসক্তির ভয়াবহতা নিয়ে একটি নাটক লিখে সবাই মিলে অভিনয় করো।
- কম্পিউটারে আসক্ত একটি ছেলে বা মেয়ে সারা দিন কীভাবে কাটায়, তা নিয়ে একটি কাল্পনিক গল্প লেখো।
৩.৪কপিরাইট
মানুষের দুই ধরনের সম্পদ
জাগতিক সম্পদ
- স্পর্শ করা যায় — বাড়ি, গাড়ি, টাকা, জামা, খাবার
- চাইলেই কেউ নিয়ে যেতে বা হুবহু বানাতে পারে না
বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদ
- গান, কবিতা, গবেষণা, সৃষ্টিশীল কাজ, নতুন পণ্য ও সেবা
- সহজেই কেউ কপি করে নিজের নামে চালাতে পারে
তুমি সুন্দর একটা গান লিখে সুর করে বন্ধুদের শোনালে। একজন ইচ্ছে করলে সেটি নিজের গান বলে চালাতে পারে, বা তোমার অনুমতি ছাড়া নানা জায়গায় গাইতে পারে। একজন লেখক শ্রম, সময় ও চিন্তা দিয়ে বই লেখেন; প্রকাশক ছেপে বিক্রি করেন, আর লেখক পান একটি অংশ — । কেউ লেখকের অজান্তে বই বের করলে লেখক এই প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন।
কপিরাইটের পথচলা
১৬৬২
প্রথম কপিরাইট আইন
মুদ্রণযন্ত্রের পর বই কপি করা সহজ হলো; লেখকদের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে পাস হয় Licensing of the Press Act 1662। বই রেজিস্ট্রেশন করে লাইসেন্স নিতে হতো।
পরবর্তীকালে
মেধাস্বত্ব
অন্যান্য প্রকাশনা, আবিষ্কার, ব্যবসার মার্কা ইত্যাদিও সংরক্ষণের আওতায় আসে।
কম্পিউটার ও ইন্টারনেট
ডিজিটাল কপি
বই-ছবি পুনরুৎপাদন খুব সহজ হলো, সারা দুনিয়ায় ছড়ানোও। কম্পিউটারের প্রোগ্রামও সৃজনশীল কাজ — তাই এগুলোও আইনের আওতায় এলো।
২০০০
বাংলাদেশের কপিরাইট আইন
বাংলাদেশে কপিরাইটের মেয়াদ স্রষ্টার মৃত্যুর পর ৬০ বছর।
সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ বছর; কোনো কোনো দেশে ১০০ বছর পর্যন্ত।
সারণি হিসেবে দেখো
| সাধারণত (বেশির ভাগ দেশে) | ৫০ বছর |
| বাংলাদেশ (কপিরাইট আইন ২০০০) | ৬০ বছর |
| কোনো কোনো দেশে | ১০০ বছর |
কপিরাইট ভেঙে পুনরুৎপাদন করা কপিকে বলে চোরাই বা কপি। কম্পিউটারের জিনিস সহজে কপি করা যায় বলে এগুলোর চোরাই কপিই সবচেয়ে বেশি। প্রোগ্রাম, গেমস, ছবি, গল্প-কবিতা — কাউকে কপি করে দেওয়ার আগে মনে রেখো, অনেক ক্ষেত্রে সে অধিকার আমাদের নেই।
কপিরাইটের বিপরীতে এখন চালু হয়েছে বা ওপেন সোর্স ফিলসফি: লেখক, শিল্পী, প্রোগ্রামার চাইলে নিজের সৃষ্টিকর্ম শর্তসাপেক্ষে কপি করার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারেন।
| লাইসেন্স | অর্থ |
|---|---|
| কপিরাইট (Copyright) | অনুমতি ছাড়া কপি বা পুনরুৎপাদন নিষেধ |
| ক্রিয়েটিভ কমন্স (সৃজনী সাধারণ) | মাঝামাঝি: কিছু অধিকার সংরক্ষিত — যেমন বই যে কেউ প্রকাশ করতে পারবে, তবে লেখকের নামে এবং মুনাফা ছাড়া |
| কপিলেফট (Copyleft) | কপিরাইটের একেবারে উল্টো: স্রষ্টা সবাইকে সানন্দে কপি করার অনুমতি দিয়েছেন |
মুক্ত দর্শনে প্রকাশিত সফটওয়্যারকে বলে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার — সবাই কপি করতে, ব্যবহার করতে আর পরিবর্তন করতে পারে, তাই সারা বিশ্বের মানুষ মিলে এগুলোকে খুব শক্তিশালী করে তোলে। এ দর্শনের আরেক বড় প্রকাশ মুক্ত জ্ঞানভান্ডার উইকিপিডিয়া (www.wikipedia.org)।
দলগত কাজ
- মুক্ত দর্শনের পক্ষে এবং বিপক্ষে দুটি দল তৈরি করে শিক্ষকের সহায়তায় একটি বিতর্কের আয়োজন করো।
৩.৫নৈতিকতা ও হ্যাকিং
রাস্তার দুই পাশের দোকান আমরা বাইরে থেকে দেখি, কিন্তু দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখি না খোলা আছে কি না। খোলা থাকলেও ঢুকে জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করি না। বরং কেউ দরজা খুলে রেখে গেলে ডেকে বলি বন্ধ করে যেতে — এটাই সভ্য মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের যতটুকু আমাদের দেখানো হয়, আমরা ততটুকুই দেখি। গোপন অংশে যেতে পারেন শুধু পাসওয়ার্ডধারী নির্দিষ্ট মানুষ। কিন্তু অনুমতি না থাকা মানুষও পাসওয়ার্ড পাশ কাটিয়ে ঢুকে পড়তে পারে — কোনো কিছু না ছুঁয়েও ফিরতে পারে, বা পরিবর্তন করে, নষ্ট করে আসতে পারে। ঘরে বসে লোকচক্ষুর আড়ালে করা যায় বলে ধরাও কঠিন। এ প্রক্রিয়ার নাম হ্যাকিং।
দুই ধরনের হ্যাকার
সাদা টুপি হ্যাকার (White hat)
- শুধু কৌতূহলী হয়ে অন্যের ওয়েবসাইটে ঢোকে
- কোনো ক্ষতি না করে বের হয়ে আসে
কালো টুপি হ্যাকার (Black hat)
- ঢুকে ক্ষতি করে আসে
- তথ্য নষ্ট বা পরিবর্তন করে
জানো কি? ১৯ বছরের হ্যাকার
১৯৮৩ সালে মাত্র ১৯ বছরের একটা ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নিরাপত্তা ভেদ করে তাদের ওয়েবসাইট হ্যাক করে ঢুকে গিয়েছিল। এখন নিরাপত্তা প্রতি মুহূর্তে বাড়ানো হচ্ছে, তবু হ্যাকাররা বসে নেই।
এসএসসি-এইচএসসির ফল প্রকাশের সময় সবাই একসঙ্গে দেখতে চাইলে ওয়েবসাইট কাজ করে না — সবকিছুর একটা ধারণক্ষমতা আছে। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছে করে প্রোগ্রাম দিয়ে কৃত্রিমভাবে প্রতি সেকেন্ডে শত-সহস্রবার প্রবেশ করিয়ে ওয়েবসাইট অচল করে দেয়, সেটিও অনৈতিক কাজ।

আরও যেসব কাজ অনৈতিক
- অনলাইন পত্রিকায় যুক্তিহীন, অশালীন মন্তব্য লেখা।
- ই-মেইলে কাউকে আঘাত দিয়ে বা হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো।
- কাউকে অসম্মান করতে তার সম্পর্কে মিথ্যা বা অসম্মানজনক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া।
দলগত কাজ
- হ্যাকিং করে কোনো ওয়েবসাইট নষ্ট করলে সেই ক্ষতি কোথা থেকে শুরু করে কোথায় পর্যন্ত যেতে পারে, বের করো। যুক্তির জন্য সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের একটা উদাহরণ দাও।
৩.৬সাইবার প্রতারণা ও অপরাধ
সাইবার জগতে সব হয় চোখের আড়ালে, তাই প্রতারণা সবচেয়ে বেশি। নিচের ঘটনাগুলো চিনে রাখো।
লটারির প্রতারণা যেভাবে ঘটে
লোভনীয় বার্তা: কাউকে জানানো হয় সে লটারিতে অনেক টাকা পেয়েছে, অথবা কারও হাতে অনেক টাকা আছে যা সে নিরাপদে রাখতে চায়।

ইন্টারনেটের বড় একটি অপরাধ ক্রেডিট কার্ড নিয়ে। ইন্টারনেটে কার্ড ব্যবহারে কার্ড লাগে না — শুধু নম্বর জানলেই চলে। তাই অপরাধীরা মানুষকে ধোঁকা দিয়ে নম্বর জেনে নিয়ে মানুষটি বোঝার আগেই বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেয়। অপরাধীরা অবৈধ কাজের তথ্যও ইন্টারনেটে পাচার করে; তাই দেশে দেশে বিশেষ আইন পাস করা হচ্ছে।
অনেকে মজা করতে বা অপরাধ করতে কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ভাইরাস ছোটখাটো যন্ত্রণা থেকে শুরু করে বড় সমস্যা ঘটাতে পারে, কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করতে পারে।
বিখ্যাত দুটি ভাইরাস আক্রমণ
১৯৯৯
Melissa
এত শক্তিশালীভাবে আক্রমণ করেছিল যে মাইক্রোসফটের মতো বড় কোম্পানিকে তাদের ইমেইল সার্ভার বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এটি তৈরির অপরাধে এর নির্মাতার জেল হয়েছিল।
২০০৪ (জানুয়ারি)
Mydoom Worm
একদিনেই আড়াই লক্ষ কম্পিউটার আক্রান্ত করেছিল।
দলগত কাজ
- কম্পিউটারে বেআইনি কাজ করে বিপদে পড়েছে — এর ওপর ভিত্তি করে একটা কার্টুন আঁকো।
৩.৭প্লেজিয়ারিজম
লেখাপড়ায় নতুন জিনিস শেখার সঙ্গে সঙ্গে আমরা শিখি সত্যিকারের, খাঁটি মানুষ হতে। খাঁটি মানুষ অন্যায় করে না, অন্যায় সহ্যও করে না। তবু পরীক্ষায় দেখাদেখি করে বা নকল করতে গিয়ে কেউ কেউ নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে।
হোমওয়ার্ক সবসময় নিজে করতে হয় — অন্য কেউ করে দিলে নম্বর পাওয়া গেলেও শেখা হয় না। ইন্টারনেটে প্রায় সব বিষয়ে তথ্য আছে বলে কেউ কেউ সেখান থেকে হুবহু নিয়ে নিজের নামে জমা দেয়।
কোনটা ঠিক, কোনটা নয়
ঠিক আছে ✓
- অন্যের লেখা পড়ে শেখা
- নিজের লেখায় অন্যের সাহায্য নেওয়া — এবং পরিষ্কারভাবে বলে দেওয়া কোন অংশ কার কাছ থেকে নেওয়া
- নিজে খাটাখাটি করে গবেষণা করে রচনা লেখা
ঠিক নয় ✗
- ইন্টারনেট থেকে হুবহু নিয়ে নিজের নামে জমা দেওয়া
- অন্যের অবদান স্বীকার না করা
- অন্যকে দিয়ে হোমওয়ার্ক করিয়ে নেওয়া
অন্যায় করলে তা নিজের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে — কিন্তু শুধু সে কারণে নয়, তোমরা কখনোই অন্যায় করবে না। কারণ তোমরা বাংলাদেশের একেবারে খাঁটি মানুষ হয়ে বড় হবে, আর বড় হয়ে তোমরাই একদিন এই দেশের দায়িত্ব নেবে।
দলগত কাজ
- ক্লাসের সবাই দুটি দলে ভাগ হয়ে প্লেজিয়ারিজম আর নিজের তৈরি কাজের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে একটি বিতর্কের আয়োজন করো।
৩.৮অনুশীলন
নতুন শিখলাম
কার্ডে চাপ দিলে উল্টে যাবে।
নমুনা প্রশ্ন (বহুনির্বাচনি)
১. বাড়িতে কম্পিউটার রাখার সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থান কোনটি?
২. সামাজিক নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে — (i) ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নাও হতে পারে (ii) আন্তরিকতার অভাব থাকে (iii) প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিচের কোনটি সঠিক?
৩. কম্পিউটারে আসক্ত একজন ব্যক্তি —
৪. রিমুর বয়স পাঁচ। ঘুম থেকে উঠেই সে টেলিভিশনে কার্টুন দেখে, বাবা-মাকে বিরক্ত করে না বলে তাঁরা খুশি। রিমুর ক্ষেত্রে কার্টুন দেখাকে বলা যায় —
৫. রিমুর প্রতি বাবা-মার আচরণে সে — (i) অসামাজিক হয়ে উঠতে পারে (ii) শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে বেড়ে উঠতে পারে (iii) সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। নিচের কোনটি সঠিক?
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ১: ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় দুটি নিয়ম উল্লেখ করো।
১. ইন্টারনেট কখনো একা অন্যদের চোখের আড়ালে ব্যবহার করবে না, এমন জায়গায় বসবে যেখানে সবাই স্ক্রিন দেখতে পায়। ২. কোনো অপরিচিত মানুষকে নিজের নাম, পরিচয়, ছবি বা পাসওয়ার্ড দেবে না।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ২: কম্পিউটার আসক্তি কাকে বলে? কীভাবে বোঝা যাবে কেউ আসক্ত হয়েছে?
প্রয়োজনের বাইরে মাত্রা ছাড়িয়ে, যুক্তি ছাড়া কম্পিউটার ব্যবহার করে যাওয়াকে কম্পিউটার আসক্তি বলে। লক্ষণ: পরিবার-বন্ধুদের সময় না দিয়ে কম্পিউটারে সময় দেয়, লেখাপড়ার ক্ষতি হয়, না ঘুমিয়ে কম্পিউটারে বসে থাকে, টাকা খরচ করে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৩: কম্পিউটার আসক্তি থেকে বের করে আনতে করণীয় কী?
কম্পিউটারের বাইরের জগৎ — বিশেষ করে খেলাধুলা — থেকে আনন্দ পাওয়া শেখাতে হবে; দিনে কতক্ষণ ব্যবহার করবে তা ঠিক করে দিতে হবে (যেমন এক ঘণ্টার বেশি নয়); অন্য কাজ করে সেই সময় অর্জন করতে হবে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৪: কপিরাইট কাকে বলে?
সৃজনশীল কাজের স্রষ্টার অধিকার রক্ষা — অর্থাৎ তাঁর অনুমতি ছাড়া কপি, পুনরুৎপাদন ও অবৈধ ব্যবহার বন্ধ — করার জন্য তৈরি আইনকে কপিরাইট বলে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৫: ওপেন সোর্স সফটওয়্যার কাকে বলে? এর একটি সুবিধা লেখো।
মুক্ত দর্শনের আওতায় প্রকাশিত যে সফটওয়্যার সবাই কপি করতে, ব্যবহার করতে ও পরিবর্তন করতে পারে, তাকে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বলে। সুবিধা: সারা বিশ্বের মানুষ মিলে এগুলোকে উন্নত ও শক্তিশালী করে তোলে।
৩.৩সামাজিক নেটওয়ার্কে আসক্তি
নতুন এক ধরনের আসক্তি হলো সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক — ফেসবুক, এক্স, লিংকডইন, ইউটিউব ইত্যাদি। তথ্য ছড়িয়ে দিতে এদের তুলনা নেই। যেসব দেশে গণতন্ত্র নেই, সেখানে এগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে -এর পতনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত একটা নির্দিষ্ট বয়স না হলে এসব নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়া যায় না, তবু অনেক কমবয়সি ভুল তথ্য দিয়ে যোগ দেয়। প্রশ্ন আসতে পারে — খবরের কাগজ পড়তে বা টেলিভিশন দেখতে তো বাধা দিই না, তাহলে এখানে আপত্তি কেন?
কমবয়সিদের জন্য ঝুঁকি কোথায়
নেটওয়ার্কের "বন্ধু" বনাম সত্যিকারের বন্ধু
নেটওয়ার্কের "বন্ধু"
সত্যিকারের বন্ধু
দলগত কাজ