এই অধ্যায় পড়ে তুমি পারবে —
- কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যাবলি বর্ণনা করতে পারবে
- কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারবে
- কম্পিউটারের চিত্র এঁকে এর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চিহ্নিত করতে পারবে
২.১বড় ছবিটা: ইনপুট → প্রসেসিং → আউটপুট

আইসিটি যন্ত্রপাতি দ্রুত আধুনিক হচ্ছে — আজকের সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রটিই কাল পুরোনো হয়ে যায়। এখন এমন টেলিভিশনও আছে যা মুখের কথাতেই চলে। কিন্তু যন্ত্র যতই বদলাক, ইনপুট, স্টোরেজ, প্রসেসিং আর আউটপুট-এর ধারণা বদলায় না। এই অধ্যায়ের সব যন্ত্র এই চার ভাগের কোনো একটিতে পড়ে।
কম্পিউটার যেভাবে কাজ করে
ইনপুট: কী-বোর্ড, মাউস, মাইক্রোফোন, ক্যামেরা, স্ক্যানার দিয়ে কম্পিউটারকে তথ্য ও নির্দেশ দেওয়া হয়।
২.২ইনপুট ডিভাইস: কী-বোর্ড, মাউস, মাইক্রোফোন
কী-বোর্ড (Keyboard) কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার প্রধান যন্ত্র। বোতাম চেপে আমরা যন্ত্রকে নির্দেশ দিই, যন্ত্র সে অনুযায়ী কাজ করে। আধুনিক কী-বোর্ডের ধারণা এসেছে থেকে, তবে কম্পিউটারের কী-বোর্ডে বিশেষ কাজের জন্য কিছু অতিরিক্ত কী থাকে।

মাউস (Mouse) একটি জনপ্রিয় ইনপুট যন্ত্র, একে -ও বলে। প্রথম নির্মাতাদের মনে হয়েছিল এটি দেখতে ইঁদুরের মতো, তাই নাম মাউস। এতে সাধারণত দুটি বাটন আর একটি থাকে।

| কাজ | ফল |
|---|---|
| মাউস নাড়াচাড়া | পর্দায় তিরের ফলার মতো পয়েন্টার সরে |
| -এর ওপর বাম বাটনে একবার ক্লিক | প্রোগ্রামটি নির্বাচিত (সিলেক্ট) হয় |
| পরপর দ্রুত দুবার ক্লিক (ডাবল ক্লিক) | প্রোগ্রামটি চালু হয় |
মাইক্রোফোন (Microphone) দিয়ে কথা, গান বা যেকোনো শব্দ কম্পিউটারে ঢোকানো যায়। ইন্টারনেটে কথা বলা ছাড়াও -এ এর ব্যবহার হয়।

দলগত কাজ
- এখানে উল্লেখ করা হয়নি এমন কতগুলো ডিভাইস, যেগুলোতে কী-বোর্ড আছে, তার নাম লিখে উপস্থাপন করো।
- প্রত্যেক দলের উপস্থাপনা থেকে একটি অভিন্ন তালিকা তৈরি করো।
২.৩ইনপুট ডিভাইস: ক্যামেরা, স্ক্যানার, ওএমআর
ডিজিটাল ক্যামেরা কম্পিউটারের ইনপুট যন্ত্র হিসেবে প্রথম ব্যবহার হয় গবেষণায়, বিশেষ করে মহাকাশ গবেষণায়। এখন প্রায় সব ডিজিটাল ক্যামেরা -এ যুক্ত করে ছবি কম্পিউটারে নেওয়া যায়।

ওয়েবক্যাম ডিজিটাল ক্যামেরারই বিশেষ রূপ, যা কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত থাকে (ল্যাপটপে সাধারণত ভেতরেই থাকে)। এটি দিয়ে নেটওয়ার্কে সরাসরি ছবি-ভিডিও আদান-প্রদান হয়; বা ভিডিও ফোনে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে ব্যাপক ব্যবহারের কারণেই নাম "ওয়েবক্যাম"।

ফটোকপি মেশিনে যতবার কপি দরকার ততবার মেশিন চালাতে হয়, তথ্য জমা থাকে না। এ সমস্যার সমাধান স্ক্যানার (Scanner) — যেকোনো ছবি, ছাপা বা হাতে লেখা কাগজ অথবা বস্তুর তৈরি করে, যা ফাইল হিসেবে কম্পিউটারে জমা রাখা যায়।

ওএমআর (OMR) বা অপটিক্যাল মার্ক রিডার আলোর প্রতিফলন বিচার করে বিশেষভাবে তৈরি দাগ বা চিহ্ন পড়তে পারে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরপত্র যাচাইয়ে এর ব্যাপক ব্যবহার।

ওএমআর যেভাবে খাতা দেখে
উত্তর জানানো: সঠিক উত্তরের বৃত্তের অবস্থান আগে থেকেই কম্পিউটারকে জানিয়ে রাখা হয়।
ওএমআর কেন জনপ্রিয়
- কম সময়ে অনেক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা যায়।
- মূল্যায়নে ভুল বা পক্ষপাতিত্বের কোনো সম্ভাবনা নেই।
দলগত কাজ
- এখানে উল্লেখ করা হয়নি এমন কতগুলো ডিভাইস, যেগুলোতে ক্যামেরা আছে, তার নাম লিখে উপস্থাপন করো।
২.৪মেমোরি: র্যাম ও রম
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সব পণ্যই দিয়ে চলে। প্রসেসরকে চালানোর নির্দেশনা জমা রাখতে দরকার মেমোরি বা স্টোরেজ। মেমোরি দুই প্রকার: প্রধান (প্রাথমিক) মেমোরি আর সহায়ক (সেকেন্ডারি) মেমোরি। প্রধান মেমোরির গতি খুব বেশি, তাই এটি সিপিইউ-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত কাজ করতে পারে। প্রধান মেমোরি আবার দুই রকম — র্যাম ও রম।
মেমোরির ক্ষমতা মাপা হয় দুইভাবে: গতি — দিয়ে, আর ধারণক্ষমতা — দিয়ে। ১০২৪ সংখ্যাটি ১০০০-এর খুব কাছাকাছি, তাই ১০২৪ বাইটকে বলা হয় এক কিলোবাইট।
তথ্যের এককের সিঁড়ি — প্রতিটি ধাপে চাপ দাও
বিট: সবচেয়ে ছোট একক — ০ অথবা ১।
র্যাম (RAM — Random Access Memory) মাদারবোর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রসেসর প্রয়োজনীয় তথ্য প্রথমে র্যামে রাখে, তারপর সেখান থেকে নিয়ে প্রক্রিয়া করে। র্যামের যেকোনো জায়গা থেকে সরাসরি (Random) তথ্য নেওয়া যায় বলে এই নাম। এখনকার সফটওয়্যার জটিল, তাই কম্পিউটারে কমপক্ষে ৮ গিগাবাইট বা তার বেশি র্যাম দরকার হয়।

রম (ROM — Read Only Memory)-ও মাদারবোর্ডে যুক্ত থাকে। কম্পিউটার চালু করতে হার্ডওয়্যারের জন্য কিছু নির্দেশনা লাগে — সেগুলো রমে স্থায়ীভাবে থাকে। এটি শুধু পড়া যায়, বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া মোছা বা বদলানো যায় না, তাই একে স্থায়ী মেমোরি বলে।

র্যাম বনাম রম
র্যাম (RAM)
- কাজ চলার সময়ের তথ্য রাখে
- বিদ্যুৎ বন্ধ হলেই সব তথ্য মুছে যায় (অস্থায়ী)
- তথ্য পড়া ও লেখা দুটোই যায়
রম (ROM)
- কম্পিউটার চালু করার নির্দেশনা রাখে
- বিদ্যুৎ না থাকলেও তথ্য থাকে (স্থায়ী)
- শুধু পড়া যায় (Read Only)
নিজেকে যাচাই করো
১. কম্পিউটার হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। কোন মেমোরির তথ্য মুছে যাবে?
২. ৮ বিট সমান কত?
দলগত কাজ
- র্যাম ও রম নামে দুটো দল গঠন করে কম্পিউটারের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ — এ বিষয়ে বিতর্ক করো।
২.৫স্টোরেজ: হার্ডডিস্ক, এসএসডি, পেনড্রাইভ
হার্ডডিস্ক (Hard Disk) তথ্য সংরক্ষণের প্রধান যন্ত্র। এর ভেতরে কয়েকটি চাকতি বা থাকে, যাদের চুম্বকীয় আস্তরণে তথ্য জমা থাকে। হার্ডডিস্ক চালু হলে প্লটারগুলো ঘোরে, আর লেখা/পড়া (Write/Read) হেড তথ্য লেখে বা পড়ে।

স্টোরেজ যেভাবে ছোট হলো, ক্ষমতা বাড়ল
১৯৫৬
প্রথম হার্ডডিস্ক
আইবিএম মেইনফ্রেম ও মিনি কম্পিউটারে প্রথম হার্ডডিস্ক ব্যবহার করে।
১৯৮০
১ গিগাবাইট = একটা ফ্রিজ!
১ গিগাবাইটের হার্ডডিস্ক ছিল বড় রেফ্রিজারেটরের সমান; প্রতি মেগাবাইটে খরচ পনেরো হাজার ডলার (আঠারো লাখ টাকা)।
২০০০-এর দিকে
পেনড্রাইভ বাজারে
তখন ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৩২ মেগাবাইট।
এখন
হাতের মুঠোয় টেরাবাইট
কম্পিউটারে ৫০০ গিগাবাইট থেকে ৪ টেরাবাইটের হার্ডডিস্ক; ১ টেরাবাইটের পেনড্রাইভও সহজে পাওয়া যায়।
হার্ডডিস্ক দুই ধরনের: কম্পিউটারের ভেতরে স্থায়ীভাবে লাগানো, আর আলাদা থাকা এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক। এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক ইউএসবি পোর্টে যেকোনো কম্পিউটারে লাগানো যায় — বিপুল তথ্য নিতে পুরো কম্পিউটার বয়ে নিতে হয় না।
সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD)-এ কোনো চলমান অংশ নেই; এটি ব্যবহার করে। তাই এটি হার্ডডিস্কের চেয়ে দ্রুত ও টেকসই।

হার্ডডিস্ক (HDD) বনাম এসএসডি (SSD)
হার্ডডিস্ক
- ভেতরে ঘূর্ণায়মান চাকতি
- চলার সময় শব্দ ও তাপ বেশি
- ধাক্কা বা পড়ে গেলে ক্ষতির ঝুঁকি
- কম দামে বেশি জায়গা
এসএসডি
- কোনো চলমান অংশ নেই (ফ্ল্যাশ মেমোরি)
- শব্দ নেই, তাপ কম
- শক ও ড্রপ সহ্য করতে পারে
- কম্পিউটার চালু ও সফটওয়্যার লোড দ্রুত হয়
নেটওয়ার্ক না থাকলে এক কম্পিউটার থেকে অন্যটিতে তথ্য নিতে সবচেয়ে সহজ পেনড্রাইভ বা ফ্ল্যাশ ড্রাইভ — কলমের মতো ছোট, পকেটে নেওয়া যায়, সিডি-ডিভিডির চেয়ে বেশি টেকে। মাইক্রোচিপযুক্ত মেমোরি কার্ড-ও অনেক তথ্য রাখে; তবে লাগাতে নির্দিষ্ট স্লট বা কার্ড রিডার লাগে। ক্যামেরা, মোবাইল, এমপিথ্রি-এমপিফোর প্লেয়ারে এর ব্যাপক ব্যবহার।

দলগত কাজ
- তথ্য সংরক্ষণের জন্য সিডি, ডিভিডি, পেনড্রাইভ অথবা মেমোরি কার্ডের মধ্যে কোনটিকে বেশি উপযোগী মনে করো? যুক্তিসহ বর্ণনা করো।
২.৬মাদারবোর্ড ও পাওয়ার সাপ্লাই
যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র খুললে একটা বোর্ড চোখে পড়ে — এটি । কম্পিউটারের এই বোর্ডের নাম মাদারবোর্ড (মেইনবোর্ড, সিস্টেম বোর্ড; অ্যাপল কম্পিউটারে লজিক বোর্ড)। প্রসেসরের সঙ্গে ইনপুট, মেমোরি, আউটপুট ও স্টোরেজ — সব যন্ত্রের সংযোগ রক্ষা করে এটি, আর বিদ্যুৎ প্রবাহও বজায় রাখে।

আধুনিক মাদারবোর্ডে সাধারণত যা থাকে
- মাইক্রোপ্রসেসর বা সিপিইউ সকেট
- র্যাম স্লট
- চিপসেট
- রম
- এক্সপ্যানশন স্লট
- পাওয়ার সংযোগ স্লট
- এ ছাড়া ইউএসবি পোর্ট, ও পোর্ট
কম্পিউটার চালাতে বিদ্যুৎ লাগে। যে অংশ মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্কসহ সব যন্ত্রাংশে বিভিন্ন মাত্রার বিদ্যুৎ জোগায়, তার নাম পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট। এটি বিদ্যুৎ লাইনের বিদ্যুৎকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে।
বিদ্যুৎ যেভাবে কম্পিউটারে পৌঁছায়
এসি বিদ্যুৎ: দেয়ালের সকেট থেকে এসি বিদ্যুৎ আসে।

দলগত কাজ (কমপক্ষে একটি শ্রেণি কার্যক্রম)
- একটি পুরোনো নষ্ট কম্পিউটার খুলে মাদারবোর্ডটি লক্ষ করো।
- মাদারবোর্ড এঁকে এর বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করো।
২.৭প্রসেসর: কম্পিউটারের মস্তিষ্ক
শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মস্তিষ্ক — তার নির্দেশে অন্য অঙ্গ কাজ করে। তেমনি কম্পিউটার, স্মার্টফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রসেসর, একে সিপিইউ (CPU — Central Processing Unit) বা কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশও বলে। গাড়ি, ক্যামেরা, গেম কনসোল, টেলিভিশন — সব হাইটেক যন্ত্রই প্রসেসর-নিয়ন্ত্রিত।

প্রসেসর তৈরি হয় অসংখ্য দিয়ে, আর আইসি তৈরি হয় দিয়ে। সব থাকে একটি ক্ষুদ্র -এ। চিপের আকার ছোট হচ্ছে, কিন্তু ক্ষমতা বাড়ছেই। মজার ব্যাপার: প্রসেসরের উন্নয়নে প্রসেসরেরই সাহায্য নেওয়া হয় — প্রসেসর নিজেই নিজেকে উন্নত করছে!
প্রসেসরের তিনটি অংশ
গাণিতিক ও যুক্তি ইউনিট: Arithmetic and Logic Unit (ALU): গাণিতিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তমূলক কাজ হয়।
প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর থেকে আজ
১৯৭১
ইন্টেল ৪০০৪
প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর; উদ্ভাবক টেড হফ, স্ট্যান মেজর, ফেডেরিকো ফ্যাগিন (যুক্তরাষ্ট্র) ও মাসাতোশি শিমা (জাপান)। ট্রানজিস্টর ছিল ২৩০০টি।
বর্তমান
কোর আই সেভেন
ট্রানজিস্টরের সংখ্যা ২২৭,০০,০০,০০০টি — প্রায় দশ লাখ গুণ! ভবিষ্যতের কথা কল্পনা করো।
পৃথিবীর মানুষ নানা ভাষায় কম্পিউটারকে নির্দেশ দেয়, কিন্তু কম্পিউটার আসলে কারও ভাষা বোঝে না। সে বোঝে শুধু দুটি অক্ষর: ‘০’ (০ থেকে ২ ভোল্ট বিদ্যুৎ) আর ‘১’ (৩ থেকে ৫ ভোল্ট বিদ্যুৎ)। এর নাম মেশিন ভাষা (Machine Language)। ফরাসি ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলতে যেমন দোভাষী লাগে, তেমনি প্রসেসরকে আমাদের ভাষা বোঝাতে লাগে অনুবাদক প্রোগ্রাম।
| অক্ষর | মেশিন কোড |
|---|---|
| A | 01000001 |
| B | 01000010 |
| ? | 00111111 |
| , | 00101100 |
দলগত কাজ
- প্রসেসরের ভাষা ও মানুষের ভাষার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।
২.৮ইনপুট ও আউটপুট: সাউন্ড কার্ড, গ্রাফিক্স কার্ড, টাচস্ক্রিন
সাউন্ড কার্ড একই সঙ্গে ইনপুট ও আউটপুট যন্ত্র। বেশির ভাগ সাউন্ড কার্ড ডিজিটাল উপাত্তকে শব্দে রূপান্তর করে; আউটপুট সংকেত -এ যুক্ত করে হেডফোন বা স্পিকারে শব্দ শোনা যায়।
মাইক্রোফোন থেকে স্পিকার পর্যন্ত শব্দের যাত্রা
ইনপুট: মাইক্রোফোনে শব্দ ঢোকে।

এখন বেশির ভাগ সাউন্ড কার্ড মাদারবোর্ডে Built in থাকে; তবে পেশাদার কাজের সাউন্ড কার্ড আলাদা করে লাগাতে হয়। গান শোনা, চলচ্চিত্র দেখা, গেম খেলা — সব শব্দই সাউন্ড কার্ডের কারণে।
পর্দায় ছবি দেখা যায় গ্রাফিক্স কার্ড-এর কারণে — একে ভিডিও কার্ড, ডিসপ্লে কার্ড বা গ্রাফিক্স -ও বলে। সব গ্রাফিক্স কার্ড ছবি দেখাতে পারে; এখন ছবি দেখানোর কার্ডও আছে (তার জন্য ত্রিমাত্রিক মনিটরও লাগে)। গেম খেলার জয়স্টিক লাগানোর আলাদা পোর্টও থাকে।

টাচস্ক্রিন এমন ডিসপ্লে যা আঙুলের স্পর্শে ইনপুট নেয় আর মনিটরের মতো ফলও দেখায়। এটি একটি ইনপুট (টাচ প্যানেল) আর একটি আউটপুট (ভিজুয়াল ডিসপ্লে) যন্ত্র মিলে তৈরি — অর্থাৎ ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ছাড়াও কারখানার অটোমেশন কাজে এর ব্যবহার আছে।

দলগত কাজ
- সাউন্ড কার্ড ও গ্রাফিক্স কার্ড ছাড়া আর কী ধরনের আউটপুট কার্ড হলে তোমাদের সুবিধা হয়? দলে আলোচনা করে উপস্থাপন করো।
২.৯আউটপুট ডিভাইস: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, প্রজেক্টর
মনিটর মূলত আউটপুট যন্ত্র (টাচস্ক্রিন মনিটর ইনপুটও নেয়)। মনিটরের কর্ণের দৈর্ঘ্যকেই এর সাইজ ধরা হয়।

| ধরন | পুরো নাম | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| সিআরটি | Cathode Ray Tube (ক্যাথোড রে টিউব) | আগে সবাই ব্যবহার করত; মোটা, ভারী, বিদ্যুৎ খরচ বেশি |
| এলসিডি | Liquid Crystal Display (লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে) | হালকা-পাতলা, আকর্ষণীয়, বিদ্যুৎ খরচ কম |
| এলইডি | Light Emitting Diode (লাইট ইমিটিং ডায়োড) | হালকা-পাতলা, আকর্ষণীয়, বিদ্যুৎ খরচ কম |
মনিটরের পরে সবচেয়ে দরকারি আউটপুট যন্ত্র প্রিন্টার — কম্পিউটারের ফলাফল কাগজে ছাপে। প্রিন্টার সাধারণত তিন ধরনের:
| প্রিন্টার | কীভাবে ছাপে | সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|---|---|
| ডট ম্যাট্রিক্স | প্রথম দিকের প্রিন্টার | ছাপার খরচ খুব কম | নিখুঁত হয় না, গতি ধীর |
| ইঙ্কজেট | তরল কালি দিয়ে | দাম কম, নিখুঁত ছাপা — ছবি প্রিন্টে বেশি ব্যবহার | ছাপার খরচ তুলনামূলক বেশি |
| লেজার | লেজার রশ্মির সাহায্যে | গতি ও মান অত্যন্ত উন্নত; এখন খরচও কম | একসময় ব্যয়বহুল ছিল |



স্পিকার সাউন্ড কার্ড বা রিসিভার থেকে আসা বৈদ্যুতিক তরঙ্গকে শোনার মতো -এ রূপান্তর করে। মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটারের এটি অত্যাবশ্যক যন্ত্র।

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর একটি ইলেকট্রো-অপটিক্যাল যন্ত্র — কম্পিউটারের ছবি লেন্স দিয়ে বহুগুণ বড় করে দেয়াল বা পর্দায় ফেলে। প্রেজেন্টেশনের কাজে ব্যবহার হয়; বড় সভাকক্ষের জন্য এর ঔজ্জ্বল্য এক থেকে চার হাজার হতে হয়।

এলইডি প্রজেক্টরের ল্যাম্প প্রায় পাঁচ গুণ বেশি চলে, তবে দাম অনেক বেশি। এখন পকেট প্রজেক্টরও পাওয়া যায়, যা মোবাইল থেকেও চালানো যায়।
সারণি হিসেবে দেখো
| এলসিডি প্রজেক্টর | ৪০০০ ঘণ্টা |
| এলইডি প্রজেক্টর | ২০০০০ ঘণ্টা |
দলগত কাজ
- তোমাদের বিদ্যালয়ে ব্যবহারের জন্য কোন ধরনের প্রিন্টার উপযুক্ত — দলে আলোচনা করে যুক্তিসহ উপস্থাপন করো।
- যে যন্ত্রগুলো আলোচনা করা হলো, এর বাইরে তোমাদের অভিজ্ঞতা থেকে ইনপুট ও আউটপুট যন্ত্রের একটি তালিকা তৈরি করো।
২.১০অনুশীলন
| ইনপুট | আউটপুট | ইনপুট ও আউটপুট দুটোই | স্টোরেজ |
|---|---|---|---|
| কী-বোর্ড | মনিটর | টাচস্ক্রিন | হার্ডডিস্ক |
| মাউস | প্রিন্টার | সাউন্ড কার্ড | এসএসডি |
| মাইক্রোফোন | স্পিকার | গ্রাফিক্স কার্ড (দুই ধরনের কানেক্টর) | পেনড্রাইভ |
| ক্যামেরা, ওয়েবক্যাম | হেডফোন | মেমোরি কার্ড | |
| স্ক্যানার, ওএমআর | প্রজেক্টর, প্লটার |
নতুন শিখলাম
কার্ডে চাপ দিলে উল্টে যাবে।
নমুনা প্রশ্ন (বহুনির্বাচনি)
১. তুমি একটি ছবির ডিজিটাল প্রতিলিপি করতে চাও। কোন যন্ত্রটি ব্যবহার করবে?
২. প্রসেসরকে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা যায় কারণ — (i) এটি মাদারবোর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে (ii) প্রসেসর কম্পিউটারের সকল কাজের নির্দেশনা দেয় (iii) এর মাধ্যমে তথ্যের প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়। নিচের কোনটি সঠিক?
৩. ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবি সংরক্ষণ করতে কোনটি ব্যবহার করবে?
৪. একসঙ্গে সরাসরি ছবি দেখা ও কথা বলার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
৫. মতিন সাহেবের নাতনি কণা ল্যাপটপে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট খেলা দেখছে এবং খেলাটি রেকর্ড করে রাখল। কণা খেলা দেখতে পারে — (i) ইন্টারনেট ব্যবহার করে (ii) ল্যাপটপে টিভি কার্ড সংযোগ করে (iii) টেলিভিশন-ল্যাপটপ সংযোগ করে। কোনটি সঠিক?
৬. খেলাটি রেকর্ড করার সবচেয়ে সুবিধাজনক যন্ত্র কোনটি?
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ১: কী-বোর্ডকে ইনপুট ডিভাইস বলা হয় কেন?
কী-বোর্ডের বোতাম চেপে আমরা কম্পিউটারে অক্ষর, সংখ্যা ও নির্দেশ ঢোকাই; তথ্য বাইরে থেকে কম্পিউটারের ভেতরে যায় বলে এটি ইনপুট ডিভাইস।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ২: মাউসকে ইনপুট ডিভাইস বলা হয় কেন?
মাউস নাড়িয়ে ও ক্লিক করে আমরা কম্পিউটারকে নির্দেশ দিই — কোন প্রোগ্রাম নির্বাচন বা চালু হবে। নির্দেশ কম্পিউটারে ঢোকে বলে এটি ইনপুট ডিভাইস।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৩: দুটি আউটপুট ডিভাইসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
মনিটর: কম্পিউটারের ফলাফল পর্দায় দেখায়; সিআরটি, এলসিডি, এলইডি ধরনের হয়। প্রিন্টার: ফলাফল কাগজে ছাপে; ডট ম্যাট্রিক্স, ইঙ্কজেট ও লেজার — তিন ধরনের হয়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৪: এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক কাকে বলে? এর একটি সুবিধা লেখো।
যে হার্ডডিস্ক কম্পিউটারের ভেতরে স্থায়ীভাবে না থেকে আলাদা থাকে এবং ইউএসবি পোর্টে লাগিয়ে ব্যবহার করা হয়, তাকে এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক বলে। সুবিধা: বিপুল তথ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে পুরো কম্পিউটার বয়ে নিতে হয় না।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৫: প্রসেসরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা হয় কেন?
প্রসেসর সফটওয়্যারের নির্দেশ বুঝে তথ্য প্রক্রিয়া করে, ইনপুট-আউটপুট যন্ত্রের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে এবং সব যন্ত্রপাতির কাজে সমন্বয় করে — ঠিক যেমন মস্তিষ্ক শরীরকে চালায়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৬: টাচস্ক্রিনকে কেন ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস বলা হয়?
টাচস্ক্রিনে আঙুলের স্পর্শে নির্দেশ দেওয়া যায় (টাচ প্যানেল — ইনপুট), আবার একই পর্দায় ফলাফল দেখা যায় (ভিজুয়াল ডিসপ্লে — আউটপুট)।