OrioleOriole
  • হোম
  • কোর্স
  • বিষয়সমূহ
  • প্রস্তুতি
  • মডেল টেস্ট
  • লাইভ ক্লাস
  • সিলেবাস
  • ব্লগ
  • সম্পর্কে
OrioleOriole
BCS প্রস্তুতিসূচিপত্র: সমাস

সূচিপত্র: সমাস

সমাস মানে সংক্ষেপণ, মিলন বা একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক পদের একসঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয় এবং ভাষা সংক্ষিপ্ত ও শ্রুতিমধুর হয়। সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ: সমস্যমান পদগুলো মিলে যে নতুন পদটি তৈরি হয়, তাকে সমস্তপদ বলে। ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য: সমস্তপদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ তৈরি করা হয়, তাকে ব্যাসবাক্য বলে। পূর্বপদ ও পরপদ: সমস্যমান পদের প্রথম অংশকে পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে পরপদ বা উত্তরপদ বলে। উদাহরণ: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে 'সিংহ' ও 'আসন' হলো সমস্যমান পদ। 'সিংহ' পূর্বপদ এবং 'আসন' পরপদ। 'সিংহাসন' হলো সমস্তপদ এবং 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো ব্যাসবাক্য। সমাস প্রধানত ছয় প্রকার : দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব। যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে সংযোজক অব্যয় (ও, এবং, আর) ব্যবহৃত হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই প্রধান। মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: মা ও বাবা = মা-বাবা, ভাই ও বোন = ভাই-বোন, মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি, চা ও বিস্কুট = চা-বিস্কুট, দুধ ও কলা = দুধ-কলা, ঘি ও ভাত = ঘি-ভাত, গুরু ও শিষ্য = গুরু-শিষ্য, যায়া ও পতি = দম্পতি, অহি ও নকুল = অহি-নকুল, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক, জমা ও খরচ = জমা-খরচ, আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়, দেনা ও পাওনা = দেনা-পাওনা, ছোট ও বড় = ছোট-বড়, কম ও বেশি = কম-বেশি, আসল ও নকল = আসল-নকল, ভালো ও মন্দ = ভালো-মন্দ, সত্য ও মিথ্যা = সত্য-মিথ্যা, পাপ ও পুণ্য = পাপ-পুণ্য, লাভ ও লোকসান = লাভ-লোকসান, দিন ও রাত = দিন-রাত, জন্ম ও মৃত্যু = জন্ম-মৃত্যু, হাত ও পা = হাত-পা, নাক ও কান = নাক-কান, চোখ ও মুখ = চোখ-মুখ, বুক ও পিঠ = বুক-পিঠ, মাথা ও মুণ্ডু = মাথা-মুণ্ডু, সাত ও পাঁচ = সাত-পাঁচ, উনিশ ও বিশ = উনিশ-বিশ, নয় ও ছয় = নয়-ছয়, হাট ও বাজার = হাট-বাজার, ঘর ও দুয়ার = ঘর-দুয়ার, চিঠিপত্র, কাগজপত্র, জামাকাপড়, দেয়াল-টেবিল, খাতা-কলম, বই-খাতা, সোনা-দানা, টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, নাম-যশ, মান-সম্মান, জীব-জন্তু, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, ঝড়-বৃষ্টি, মেঘ-রোদ, আলো-আঁধার, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা, জয়-পরাজয়, শত্রু-মিত্র, বন্ধু-বান্ধব, ছেলে-মেয়ে, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ডাক্তার-নার্স, উকিল-মোক্তার, রাজা-রানি, ধনী-গরিব, সাধু-সন্ন্যাসী, জিন-পরী, দেব-দেবী, সুর-অসুর, মানব-দানব, জীব-জগৎ, চরাচর, স্থাবর-অস্থাবর, দৃশ্য-অদৃশ্য, জানা-অজানা, বলা-কওয়া, লেখা-পড়া, চলা-ফেরা, দেখা-শোনা, আসা-যাওয়া, দেওয়া-নেওয়া, কেনা-বেচা, খাওয়া-দাওয়া, শোয়া-বসা, ওঠা-নামা, ভাঙা-গড়া, হারা-জেতা, বাঁচা-মরা, হাসা-কাঁদা, নাচা-গানা, বলা-শোনা, ভাবা-চিন্তা, করা-কর্ম, ধর্ম-অধর্ম, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, সত্য-অসত্য, ভালো-খারাপ, সুন্দর-কুৎসিত, লম্বা-খাটো, মোটা-চিকন, সাদা-কালো, লাল-নীল, সবুজ-হলুদ, টক-মিষ্টি, ঝাল-নোনতা, গরম-ঠান্ডা, নরম-শক্ত, হালকা-ভারী, কাঁচা-পাকা, ভেজা-শুকনো, খালি-ভরা, খোলা-বন্ধ, সোজা-বাঁকা, সহজ-কঠিন, সরল-জটিল, শান্ত-চঞ্চল, স্থির-অস্থির, সচল-অচল, চেতন-অচেতন, সজীব-নির্জীব, সবল-দুর্বল, সুস্থ-অসুস্থ, সুখী-দুঃখী, ধনী-দরিদ্র, জ্ঞানী-মূর্খ, বিদ্বান-মূর্খ, পণ্ডিত-মূর্খ, সভ্য-বর্বর, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, আধুনিক-প্রাচীন, দেশি-বিদেশি, জাতীয়-আন্তর্জাতিক, সরকারি-বেসরকারি, দৈনিক-সাপ্তাহিক, মাসিক-বার্ষিক, সকাল-বিকাল, সন্ধ্যা-সকাল, আজ-কাল, এখন-তখন, এখানে-সেখানে, সামনে-পেছনে, উপরে-নিচে, ভিতরে-বাইরে, আগে-পরে, প্রথমে-শেষে, শুরু-শেষ, আরম্ভ-সমাপ্তি, ইত্যাদি। বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। সাধারণ কর্মধারয়: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, মহান যে নবী = মহানবী, কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা, শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, যে চালাক সে-ই চতুর = চালাকচতুর, যিনি জজ তিনি সাহেব = জজসাহেব, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহৎ যে জন = মহাজন, নীল যে আকাশ = নীলাকাশ, রক্ত যে চন্দন = রক্তচন্দন, শ্বেত যে বস্ত্র = শ্বেতবস্ত্র, পীত যে অম্বর = পীতাম্বর, ঘন যে শ্যাম = ঘনশ্যাম, নব যে অন্ন = নবান্ন, পূর্ণ যে চন্দ্র = পূর্ণচন্দ্র, অর্ধ যে চন্দ্র = অর্ধচন্দ্র, মহারাজা, মহাকাব্য, মহাপুরুষ, মহাজন, মহাদেবী, মহর্ষি, মহাত্মা, মহীয়ান, মহীয়সী, নবীন যুবক, প্রবীণ ব্যক্তি, ক্ষুদ্রকায় প্রাণী, বিশালদেহী হাতি, ইত্যাদি। মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ, পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন, মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, জীবন রক্ষার জন্য বীমা = জীবনবীমা, ঘর জামাই, জয় পতাকা, ঘি-ভাত, হাতপাখা, ধর্মঘট, ছায়াতরু, কর্মবীর, ধর্মভীরু, কর্মকুশল, কর্মনিপুণ, কর্মঠ, কর্মহীন, কর্মব্যস্ত, কর্মজীবন, কর্মক্ষেত্র, কর্মফল, কর্মদোষ, কর্মগুণ, কর্মপথ, কর্মপন্থা, কর্মপ্রণালী, কর্মবীর, কর্মব্যস্ত, কর্মবিমুখ, কর্মশালা, কর্মহীন, কর্মাধ্যক্ষ, ইত্যাদি। উপমান কর্মধারয়: (দৃশ্যমান বস্তুর সাথে তুলনা) তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা, ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ = ভ্রমরকৃষ্ণ, বকের ন্যায় ধার্মিক = বকধার্মিক, শশকের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত, কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল, মেঘের মতো কালো = মেঘকালো, রক্তের মতো লাল = রক্তলাল, ইত্যাদি। উপমিত কর্মধারয়: (অদৃশ্য বা গুণের সাথে তুলনা) মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র, পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ, চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল, কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব, বাহুলতা, অধরপল্লব, নয়নকমল, ইত্যাদি। রূপক কর্মধারয়: (উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভেদ কল্পনা) মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল, জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ, জীবন রূপ নদী = জীবননদী, ভব রূপ সাগর = ভবসাগর, শোক রূপ সাগর = শোকসাগর, মোহ রূপ নিদ্রা = মোহনিদ্রা, দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া, প্রাণপাখি, যৌবনসূর্য, ইত্যাদি। পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। দ্বিতীয়া তৎপুরুষ (কে, রে বিভক্তি লোপ): দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন, রথকে চালনা = রথচালনা, বইকে পড়া = বইপড়া, দেশকে ভালোবাসা = দেশপ্রেম, চিরকাল ব্যাপীয়া সুখী = চিরসুখী, ইত্যাদি। তৃতীয়া তৎপুরুষ (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক বিভক্তি লোপ): মন দিয়ে গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ, রত্ন দ্বারা শোভিত = রত্নশোভিত, পদ দ্বারা দলিত = পদদলিত, মেঘ দ্বারা আবৃত = মেঘাবৃত, জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য, ইত্যাদি। চতুর্থী তৎপুরুষ (কে, জন্য, নিমিত্ত বিভক্তি লোপ): গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি, আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা, হজের জন্য যাত্রা = হজযাত্রা, বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি, দেবকে দত্ত = দেবদত্ত, রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর, ইত্যাদি। পঞ্চমী তৎপুরুষ (হতে, থেকে, চেয়ে বিভক্তি লোপ): বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত, জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত, স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো, প্রাণ থেকে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়, মেঘ থেকে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঋণ থেকে মুক্ত = ঋণমুক্ত, ইত্যাদি। ষষ্ঠী তৎপুরুষ (র, এর বিভক্তি লোপ): রাজার পুত্র = রাজপুত্র, চায়ের বাগান = চাবাগান, দেশের সেবা = দেশসেবা, পথের রাজা = রাজপথ, অশ্বের ডিম্ব = অশ্বডিম্ব, বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা, হাসির পাত্র = হাসিপাত্র, মনের মানুষ = মনমানুষ, ইত্যাদি। সপ্তমী তৎপুরুষ (এ, য়, তে বিভক্তি লোপ): গাছে পাকা = গাছপাকা, দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা, বাক্সে বন্দি = বাক্সবন্দি, অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু, ভোজন পটু = ভোজনপটু, বিশ্বে বিখ্যাত = বিশ্ববিখ্যাত, ইত্যাদি। নঞ তৎপুরুষ (না-বাচক অব্যয়): ন আচার = অনাচার, ন কাতর = অকাতর, ন বিশ্বাস = অবিশ্বাস, ন সুর = অসুর, নাই পরোয়া = বেপরোয়া, গরহাজির, নামঞ্জুর, ইত্যাদি। উপপদ তৎপুরুষ (কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের সমাস): পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ, জল দেয় যে = জলদ, অগ্রে জন্মে যে = অগ্রজ, ইন্দ্রকে জয় করে যে = ইন্দ্রজিৎ, ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা, সত্য বলে যে = সত্যবাদী, ইত্যাদি। অলুক তৎপুরুষ (পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না): গায়ে পড়া, তেলে ভাজা, কলে ছাঁটা, ঘিয়ে ভাজা, কলের গান, গরুর গাড়ি, মনের মানুষ (ষষ্ঠী), হাতে-কলমে, মুখে-ভাত, কানে-কলম, ইত্যাদি। যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ বা ব্যক্তিকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। সমানাধিকরণ বহুব্রীহি (পূর্বপদ বিশেষণ, পরপদ বিশেষ্য): নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ (শিব), হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, পীত অম্বর যার = পীতাম্বর (বিষ্ণু), দশ আনন যার = দশানন (রাবণ), কম বখত যার = কমবখত, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ, হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতবসন, মন্দভাগ্য, ইত্যাদি। ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি (পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটিই বিশেষণ নয়): বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি (সরস্বতী), শূল পাণিতে যার = শূলপাণি (শিব), পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ (বিষ্ণু), কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব, ইত্যাদি। ব্যতিহার বহুব্রীহি (একই ক্রিয়ার পারস্পরিক পুনরাবৃত্তি): কানে কানে যে কথা = কানাকানি, হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই = লাঠালাঠি, হাসাহাসি, কোলাকুলি, গুঁতোগুঁতি, চুলোচুলি, দেখাদেখি, বলাবলি, মারামারি, ইত্যাদি। নঞ বহুব্রীহি (পূর্বপদ না-বাচক): নাই জ্ঞান যার = অজ্ঞান, নাই ভুল যার = নির্ভুল, নাই অন্ত যার = অনন্ত, নাই উপায় যার = নিরুপায়, নাই বোধ যার = নির্বোধ, বেহেড, বেহুঁশ, নাচার, বেতার, ইত্যাদি। মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি (ব্যাসবাক্যের মধ্যের পদ লোপ পায়): হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি, বিড়ালের চোখের মতো চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী, গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ, মৃগের নয়নের মতো নয়ন যার = মৃগনয়না, ইত্যাদি। প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি (সমস্তপদের শেষে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয়): এক দিকে চোখ যার = একচোখা, ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো, নাই খরচ যার = নিখরচে, দাড়ি মুখে যার = দাড়িওয়ালা, ইত্যাদি। অলুক বহুব্রীহি (পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না): গায়ে হলুদ, মাথায় পাগড়ি, কানে খাটো, হাতে বেড়ি, গলায় গামছা, মুখে মধু, কানে-কলম, ইত্যাদি। সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি (পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, পরপদ বিশেষ্য এবং সমস্তপদটি বিশেষণ): দশ আনন যার = দশানন, চার হাত যার = চতুর্ভুজ, সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার, চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা, তেপায়া, দোনলা, পঞ্চানন, ইত্যাদি। পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি দ্বারা সমাহার বা সমষ্টি বোঝালে, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। এটি কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত। তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা, চৌ (চার) রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা, শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী, পঞ্চ বটের সমাহার = পঞ্চবটী, সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি, তিন মাথার সমাহার = তেমাথা, অষ্ট ধাতুর সমাহার = অষ্টধাতু, নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন, পঞ্চ নদীর সমাহার = পঞ্চনদ, তিন পদের সমাহার = ত্রিপদী, চার ভুজের সমাহার = চতূর্ভুজ, সাত সমুদ্রের সমাহার = সাতসমুদ্র, ইত্যাদি। পূর্বপদে অব্যয়যোগে যে সমাস হয় এবং অব্যয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অভাব: ভাতের অভাব = হাভাত, মিলের অভাব = গরমিল, জলের অভাব = নির্জল, আমিষের অভাব = নিরামিষ। অতিক্রম না করে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য, বিধিকে অতিক্রম না করে = যথাবিধি। প্র, প্রতি, অনু ইত্যাদি অব্যয়ের সাথে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে। প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন, প্র (প্রকৃষ্ট) যে ভাত = প্রভাত, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি, পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ, ইত্যাদি। যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সবসময় সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না বা ব্যাসবাক্য করতে হলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র, অন্য দেশ = দেশান্তর, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই, কাল তুল্য সাপ = কালসাপ, অন্য গৃহ = গৃহান্তর, ইত্যাদি। যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক সমাস বলে। এটি দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ এবং বহুব্রীহি সমাসের প্রকারভেদ হিসেবে পাওয়া যায়। এখানে সমাস প্রকরণের উপর ভিত্তি করে বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সংকলিত হলো। নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার জন্য প্রশ্নগুলো অনুশীলন করুন।

এই পাতার জন্য MCQ বা পাঠ-সামগ্রী এখনও যোগ করা হয়নি। শীঘ্রই উপলব্ধ হবে।

পূর্ববর্তী
সূচিপত্র: সন্ধি
পরবর্তী
সূচিপত্র: প্রত্যয়
নিউজলেটার

পরীক্ষার আপডেট সরাসরি আপনার ইনবক্সে

নতুন সার্কুলার, ফ্রি মডেল টেস্ট ও প্রস্তুতি টিপস — সপ্তাহে একবার।

OrioleOriole

অরিয়ল (Oriole) — প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ও NTRCA শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতির এক প্ল্যাটফর্ম। সিলেবাসভিত্তিক পাঠ, প্রশ্ন ব্যাঙ্ক, মডেল টেস্ট এবং বিশেষজ্ঞ ইনস্ট্রাক্টরদের লাইভ ক্লাস — সবকিছু এক জায়গায়।

  • আকুয়া, ময়মনসিংহ ২২০০, বাংলাদেশ
  • +880 171648362490
  • hello@oriole.com.bd

প্রস্তুতি

  • সব কোর্স
  • বিষয়সমূহ
  • মডেল টেস্ট
  • লাইভ ক্লাস
  • সিলেবাস
  • ব্লগ

পরীক্ষা ও বিষয়

  • বাংলা
  • ইংরেজি
  • গণিত
  • সাধারণ জ্ঞান
  • প্রাথমিক ফুল কোর্স
  • NTRCA প্রিলি ব্যাচ

প্ল্যাটফর্ম

  • সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • সচরাচর জিজ্ঞাসা
  • গোপনীয়তা নীতি
  • শর্তাবলী
  • রিফান্ড নীতি

অ্যাপ ডাউনলোড

শীঘ্রই আসছেGoogle Play
শীঘ্রই আসছেApp Store

নিরাপদ পেমেন্ট পার্টনার

bKash
Nagad
Rocket

© 2026 অরিয়ল (Oriole)। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

গোপনীয়তা·শর্তাবলী·কুকিজ·সাইটম্যাপ