জীব বিজ্ঞান
জীব বিজ্ঞান (Biology) হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে জীব ও জীবন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিসিএস পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান অংশে জীব বিজ্ঞান (উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোষের গঠন থেকে শুরু করে মানবদেহ, উদ্ভিদ জগৎ, জেনেটিক্স এবং জীববৈচিত্র্য পর্যন্ত এর পরিধি বিস্তৃত। দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় এই বিষয়গুলো থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। এই পৃষ্ঠায় আমরা বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাসের আলোকে জীব বিজ্ঞানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অসংখ্য উদাহরণসহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। জীবদেহ বিভিন্ন জটিল জৈব অণু (Biomolecules) দ্বারা গঠিত, যা জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। শর্করা (Carbohydrates): শক্তির প্রধান উৎস। উদাহরণ: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ (চিনি), শ্বেতসার বা স্টার্চ (ভাত, আলু, রুটি), সেলুলোজ (উদ্ভিদ কোষপ্রাচীরের উপাদান)। আমিষ (Proteins): দেহ গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। উদাহরণ: হিমোগ্লোবিন, এনজাইম (উৎসেচক), হরমোন, মাছ, মাংস, ডিম, ডাল। লিপিড বা স্নেহ (Lipids): শক্তি সঞ্চয় করে এবং কোষের ঝিল্লি তৈরি করে। উদাহরণ: তেল, চর্বি, ঘি, মাখন, কোলেস্টেরল। নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acids): বংশগতির ধারক ও বাহক। উদাহরণ: ডিএনএ (DNA) ও আরএনএ (RNA)। একই ধরনের কোষ একত্রিত হয়ে টিস্যু, বিভিন্ন টিস্যু মিলে অর্গান বা অঙ্গ এবং বিভিন্ন অঙ্গ মিলে অর্গান সিস্টেম বা তন্ত্র গঠিত হয়। উদ্ভিদ টিস্যু (Plant Tissue): ভাজক টিস্যু: বিভাজনে সক্ষম (যেমন: কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগ)। স্থায়ী টিস্যু: বিভাজনে অক্ষম (যেমন: জাইলেম - পানি পরিবহন করে, ফ্লোয়েম - খাদ্য পরিবহন করে)। স্থায়ী টিস্যু: বিভাজনে অক্ষম (যেমন: জাইলেম - পানি পরিবহন করে, ফ্লোয়েম - খাদ্য পরিবহন করে)। প্রাণী টিস্যু (Animal Tissue): আবরণী টিস্যু (Epithelial): দেহের বাইরের ও ভিতরের অঙ্গের আবরণ তৈরি করে। যোজক টিস্যু (Connective): বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। উদাহরণ: রক্ত, হাড়। পেশি টিস্যু (Muscular): অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে। স্নায়ু টিস্যু (Nervous): উদ্দীপনা গ্রহণ ও পরিবহনে কাজ করে। যোজক টিস্যু (Connective): বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। উদাহরণ: রক্ত, হাড়। অর্গান সিস্টেম (উদাহরণ): পরিপাকতন্ত্র, শ্বসনতন্ত্র, রক্ত সংবহনতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, রেচনতন্ত্র। জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) হলো পৃথিবীতে জীবনের বিচিত্র রূপের সমাহার। সুবিধার জন্য বিজ্ঞানীরা জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং একটি নির্দিষ্ট নামকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature): প্রবর্তক: ক্যারোলাস লিনিয়াস। পদ্ধতি: প্রতিটি জীবের দুটি অংশ নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়। প্রথম অংশটি গণ (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি (Species)। নিয়ম: নামটি ল্যাটিন ভাষায় হয় এবং ইটালিক অক্ষরে লেখা হয়। হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে আলাদা দাগ দিতে হয়। গণের নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের এবং প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর ছোট হাতের হয়। পদ্ধতি: প্রতিটি জীবের দুটি অংশ নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়। প্রথম অংশটি গণ (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি (Species)। নিয়ম: নামটি ল্যাটিন ভাষায় হয় এবং ইটালিক অক্ষরে লেখা হয়। হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে আলাদা দাগ দিতে হয়। গণের নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের এবং প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর ছোট হাতের হয়। বোটানিক্যাল ও জুলোজিক্যাল নামকরণের উদাহরণ: মানুষ: *Homo sapiens* আম: *Mangifera indica* ধান: *Oryza sativa* পাট: *Corchorus capsularis* রয়েল বেঙ্গল টাইগার: *Panthera tigris* ইলিশ: *Tenualosa ilisha* দোয়েল: *Copsychus saularis* শাপলা: *Nymphaea nouchali* অপুষ্পক উদ্ভিদ (Cryptogamia): যাদের ফুল ও ফল হয় না। সমাঙ্গবর্গ (Thallophyta): দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। উদাহরণ: শৈবাল (Algae - যেমন: স্পাইরোগাইরা), ছত্রাক (Fungi - যেমন: মাশরুম, পেনিসিলিয়াম)। মস বর্গ (Bryophyta): এদের কাণ্ড ও পাতা আছে কিন্তু মূল নেই। উদাহরণ: মস। ফার্ন বর্গ (Pteridophyta): এদের মূল, কাণ্ড ও পাতা আছে কিন্তু ফুল হয় না। উদাহরণ: ঢেঁকিশাক। সমাঙ্গবর্গ (Thallophyta): দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। উদাহরণ: শৈবাল (Algae - যেমন: স্পাইরোগাইরা), ছত্রাক (Fungi - যেমন: মাশরুম, পেনিসিলিয়াম)। ফার্ন বর্গ (Pteridophyta): এদের মূল, কাণ্ড ও পাতা আছে কিন্তু ফুল হয় না। উদাহরণ: ঢেঁকিশাক। সপুষ্পক উদ্ভিদ (Phanerogamia): যাদের ফুল ও ফল হয়। নগ্নবীজী (Gymnosperm): ফুলে গর্ভাশয় না থাকায় ফল হয় না, বীজ নগ্ন থাকে। উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস। আবৃতবীজী (Angiosperm): ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল হয় এবং বীজ ফলের ভেতরে আবৃত থাকে। উদাহরণ: আম, জাম, ধান, গম (অধিকাংশ উদ্ভিদ)। নগ্নবীজী (Gymnosperm): ফুলে গর্ভাশয় না থাকায় ফল হয় না, বীজ নগ্ন থাকে। উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস। আবৃতবীজী (Angiosperm): ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল হয় এবং বীজ ফলের ভেতরে আবৃত থাকে। উদাহরণ: আম, জাম, ধান, গম (অধিকাংশ উদ্ভিদ)। অমেরুদণ্ডী (Invertebrates): Porifera: ছিদ্রযুক্ত প্রাণী। উদাহরণ: স্পঞ্জ। Cnidaria: দেহ গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। উদাহরণ: হাইড্রা, জেলিফিশ। Platyhelminthes: চ্যাপ্টা কৃমি। উদাহরণ: ফিতাকৃমি, যকৃত কৃমি। Nematoda: গোলকৃমি। উদাহরণ: গোলকৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি। Annelida: দেহ আংটির মতো খণ্ডক নিয়ে গঠিত। উদাহরণ: কেঁচো, জোঁক। Arthropoda: সন্ধিযুক্ত পা ও কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল। এটি প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব। উদাহরণ: প্রজাপতি, মশা, মাছি, চিংড়ি, কাঁকড়া। Mollusca: দেহ নরম ও সাধারণত খোলস দ্বারা আবৃত। এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্ব। উদাহরণ: শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস। Echinodermata: দেহ কাঁটাযুক্ত। উদাহরণ: তারামাছ (Starfish)। Arthropoda: সন্ধিযুক্ত পা ও কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল। এটি প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব। উদাহরণ: প্রজাপতি, মশা, মাছি, চিংড়ি, কাঁকড়া। Mollusca: দেহ নরম ও সাধারণত খোলস দ্বারা আবৃত। এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্ব। উদাহরণ: শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস। মেরুদণ্ডী (Vertebrates - Phylum: Chordata): শ্রেণি: Pisces (মাছ), Amphibia (উভচর - যেমন: ব্যাঙ), Reptilia (সরীসৃপ - যেমন: সাপ, কুমির), Aves (পাখি), Mammalia (স্তন্যপায়ী - যেমন: মানুষ, বাঘ, তিমি, বাদুড়)। শ্রেণি: Pisces (মাছ), Amphibia (উভচর - যেমন: ব্যাঙ), Reptilia (সরীসৃপ - যেমন: সাপ, কুমির), Aves (পাখি), Mammalia (স্তন্যপায়ী - যেমন: মানুষ, বাঘ, তিমি, বাদুড়)। ফুল (Flower): উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। একটি আদর্শ ফুলের ৫টি অংশ: বৃতি (Calyx), দল (Corolla), পুংকেশর (Androecium), স্ত্রীকেশর (Gynoecium) ও পুষ্পাক্ষ। ফল (Fruit): নিষিক্ত ও পরিপক্ব গর্ভাশয়কে ফল বলে। প্রকৃত ফল: শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে। উদাহরণ: আম, জাম। অপ্রকৃত ফল: গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্য অংশ ফলে পরিণত হলে। উদাহরণ: আপেল, চালতা। সরল ফল, গুচ্ছ ফল (আতা), যৌগিক ফল (আনারস, কাঁঠাল)। সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): সংজ্ঞা: যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত করে। উপাদান: কার্বন ডাই অক্সাইড, পানি, সূর্যালোক, ক্লোরোফিল। প্রধান অঙ্গ: পাতা। দিনের বেলায় সংঘটিত হয়। সংজ্ঞা: যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত করে। উদ্ভিদ পুষ্টি (Plant Nutrition): অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: ১৬টি। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট (১০টি): বেশি পরিমাণে প্রয়োজন। উদাহরণ: নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাসিয়াম (K), ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (৬টি): স্বল্প পরিমাণে প্রয়োজন। উদাহরণ: জিঙ্ক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, কপার। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট (১০টি): বেশি পরিমাণে প্রয়োজন। উদাহরণ: নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাসিয়াম (K), ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (৬টি): স্বল্প পরিমাণে প্রয়োজন। উদাহরণ: জিঙ্ক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, কপার। ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলে বা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পরাগায়ন বলে। স্বপরাগায়ন (Self-pollination): একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন ফুলে পরাগায়ন। উদাহরণ: সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা। পরপরাগায়ন (Cross-pollination): একই প্রজাতির ভিন্ন দুটি উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন। উদাহরণ: শিমুল, পেঁপে, ধান। মাধ্যম (Agents): বায়ু (ধান), পানি (পাতা শেওলা), পতঙ্গ (সরিষা, জবা), পাখি (শিমুল, পলাশ), বাদুড় (কদম)। রক্ত (Blood): এক প্রকার তরল যোজক টিস্যু। উপাদান: রক্তরস বা প্লাজমা (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। রক্তকণিকা: লোহিত রক্তকণিকা (অক্সিজেন পরিবহন করে), শ্বেত রক্তকণিকা (রোগ প্রতিরোধ করে), অণুচক্রিকা (রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে)। রক্তের গ্রুপ: A, B, AB, O। সার্বজনীন দাতা (Universal Donor): O গ্রুপ। সার্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient): AB গ্রুপ। রক্তকণিকা: লোহিত রক্তকণিকা (অক্সিজেন পরিবহন করে), শ্বেত রক্তকণিকা (রোগ প্রতিরোধ করে), অণুচক্রিকা (রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে)। রক্তের গ্রুপ: A, B, AB, O। সার্বজনীন দাতা (Universal Donor): O গ্রুপ। সার্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient): AB গ্রুপ। রক্ত সঞ্চালন: হৃদপিণ্ড (Heart): রক্ত সংবহনতন্ত্রের কেন্দ্রীয় পাম্প। এর চারটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে। ধমনী (Artery): হৃদপিণ্ড থেকে বিশুদ্ধ রক্ত (অক্সিজেনযুক্ত) সারা দেহে বহন করে (ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় ধমনী)। শিরা (Vein): দেহ থেকে দূষিত রক্ত (কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত) হৃদপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে (ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় শিরা)। ধমনী (Artery): হৃদপিণ্ড থেকে বিশুদ্ধ রক্ত (অক্সিজেনযুক্ত) সারা দেহে বহন করে (ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় ধমনী)। শিরা (Vein): দেহ থেকে দূষিত রক্ত (কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত) হৃদপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে (ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় শিরা)। রক্তচাপ (Blood Pressure): স্বাভাবিক মান ১২০/৮০ mmHg। উচ্চ রক্তচাপকে হাইপারটেনশন বলে। স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System): দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং উদ্দীপনায় সাড়া প্রদানকারী তন্ত্র। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে গঠিত। মস্তিষ্ক (Brain): গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম (চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতির কেন্দ্র), লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম (দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে), মেডুলা (হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে)। মস্তিষ্ক (Brain): গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম (চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতির কেন্দ্র), লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম (দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে), মেডুলা (হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে)। স্নায়ুরোগ (Neurological Disorders): স্ট্রোক, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, মৃগীরোগ (Epilepsy)। ভিটামিন (Vitamin): সংজ্ঞা: খাদ্যে উপস্থিত জৈব যৌগ যা জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য অপরিহার্য। প্রকারভেদ: দ্রবণীয়তার ভিত্তিতে: চর্বিতে দ্রবণীয় (A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় (B কমপ্লেক্স, C)। অভাবজনিত রোগ (উদাহরণ): ভিটামিন A: রাতকানা রোগ। ভিটামিন B1: বেরিবেরি। ভিটামিন C: স্কার্ভি। ভিটামিন D: শিশুদের রিকেটস ও বয়স্কদের অস্টিওম্যালেসিয়া। ভিটামিন K: রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব। সংজ্ঞা: খাদ্যে উপস্থিত জৈব যৌগ যা জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য অপরিহার্য। প্রকারভেদ: দ্রবণীয়তার ভিত্তিতে: চর্বিতে দ্রবণীয় (A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় (B কমপ্লেক্স, C)। অভাবজনিত রোগ (উদাহরণ): ভিটামিন A: রাতকানা রোগ। ভিটামিন B1: বেরিবেরি। ভিটামিন C: স্কার্ভি। ভিটামিন D: শিশুদের রিকেটস ও বয়স্কদের অস্টিওম্যালেসিয়া। ভিটামিন K: রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব। দ্রবণীয়তার ভিত্তিতে: চর্বিতে দ্রবণীয় (A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় (B কমপ্লেক্স, C)। অভাবজনিত রোগ (উদাহরণ): ভিটামিন A: রাতকানা রোগ। ভিটামিন B1: বেরিবেরি। ভিটামিন C: স্কার্ভি। ভিটামিন D: শিশুদের রিকেটস ও বয়স্কদের অস্টিওম্যালেসিয়া। ভিটামিন K: রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব। ডিএনএ (DNA - Deoxyribonucleic Acid): জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক, দ্বি-সূত্রক গঠন। ভাইরাস (Virus): বৈশিষ্ট্য: অকোষীয়, জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায়ের বস্তু। শুধুমাত্র জীবন্ত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। রোগ (উদাহরণ): ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি-কাশি, হাম, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, এইডস (HIV ভাইরাস দ্বারা), কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস)। বৈশিষ্ট্য: অকোষীয়, জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায়ের বস্তু। শুধুমাত্র জীবন্ত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। রোগ (উদাহরণ): ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি-কাশি, হাম, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, এইডস (HIV ভাইরাস দ্বারা), কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস)। ব্যাকটেরিয়া (Bacteria): বৈশিষ্ট্য: আদিকোষী (Prokaryotic), এককোষী অণুজীব। উপকারী ব্যাকটেরিয়া: দই তৈরিতে, পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে, মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে। অপকারী ব্যাকটেরিয়া (রোগ সৃষ্টিকারী): কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ধনুষ্টংকার। উপকারী ব্যাকটেরিয়া: দই তৈরিতে, পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে, মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে। অপকারী ব্যাকটেরিয়া (রোগ সৃষ্টিকারী): কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ধনুষ্টংকার। এখানে জীব বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা—যেমন উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান, কোষ, টিস্যু, জীববৈচিত্র্য, জেনেটিক্স এবং অণুজীববিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সংকলিত হলো। নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার জন্য প্রশ্নগুলো অনুশীলন করুন।
এই পাতার জন্য MCQ বা পাঠ-সামগ্রী এখনও যোগ করা হয়নি। শীঘ্রই উপলব্ধ হবে।